চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে বাসায় ঢুকে প্রথমে পুলিশ ও পরে সাংবাদিক পরিচয়ে নারীদের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেলিং ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
অসামাজিক কার্যকলাপের বানোয়াট তথ্যের অজুহাতে গৃহবধূদের ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এই ঘটনায় হালিশহর থানায় মামলা দায়েরের পর দুজনকে ওয়াকিটকিসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে হালিশহর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তার আগে গতকাল মঙ্গলবার হালিশহর থানার শ্যামলী আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মামলার আসামিরা হলেন-সাখাওয়াত হোসেন (৪০), মো. মাইনউদ্দিন (৪৬), মো. জাহিদ (৩০), মো. মোস্তাফিজ (৩৬) ও বাবুল (৩৬)। এদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন ও মো. মাইনউদ্দিনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৫৫ বছর বয়সী ওই নারী তাঁর দুই পুত্রবধূকে নিয়ে বাসায় অবস্থান করছিলেন। তাঁর স্বামী ও দুই ছেলে কাজের প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন।
এই সুযোগে পাঁচ ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে ঘরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন। আচরণে সন্দেহ হলে ভুক্তভোগীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে আসামিরা হঠাৎ নিজেদের সাংবাদিক দাবি করেন।
এরপরই ঘরে অসামাজিক কাজ চলার ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে গৃহবধূদের মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন তাঁরা।
একপর্যায়ে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ঘরে ভাঙচুর চালান এবং পরিবারের সদস্যদের ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেন।
ভুক্তভোগীদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তাঁদের সঙ্গেও আস্ফালন দেখায় চক্রটি। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে সাখাওয়াত ও মাইনউদ্দিনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। বাকি তিনজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি ও একটি মুঠোফোন জব্দ করেছে পুলিশ।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদিন মণ্ডল জানান, অভিযুক্ত চক্রটি প্রথমে পুলিশ এবং পরে সাংবাদিক পরিচয়ে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা চালায়।
খবর পেয়ে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাঁদের কাছ থেকে ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পলাতক বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।