শিরোনামঃ

মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকীকরণে বৈশ্বিক স্বীকৃতি

ডিজিটালাইজেশন, জাহাজের অবস্থানকাল কমানো ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে মুগ্ধ বৈশ্বিক শিপিং জায়ান্ট সিএমএ সিজিএম; দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের আগ্রহ।

মামুনুর রশিদ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন স্বীকৃতি পেল। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিপিং ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান সিএমএ সিজিএম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বের উচ্চ প্রশংসা করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বন্দর ভবনে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে সিএমএ সিজিএমের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের বর্তমান অবস্থা, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সিএমএ সিজিএমের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নেটওয়ার্ক ম্যানেজার জুলিয়েন লেকুয়ে এক আনুষ্ঠানিক ই-মেইলে চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানের দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বন্দরের পরিচালনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে, যা আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

বন্দর সূত্র জানায়, গত ছয় মাসে চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে জাহাজের অবস্থানকাল (টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম) উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা, ইলেকট্রনিক প্রবেশপত্র (ই-গেট পাস) চালু, বিভিন্ন সেবায় কাগজবিহীন (পেপারলেস) কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং বন্দর পরিচালনায় তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব উদ্যোগের ফলে পণ্য খালাসের গতি বেড়েছে, সেবার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয় উভয়ই কমেছে।

এছাড়া একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বন্দর গড়ে তোলার লক্ষ্যেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষা, পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বৈঠকে সিএমএ সিজিএমের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। তারা বলেন, আধুনিক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বন্দর গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। নিজেদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পরিচালনাগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতেও চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানির এমন স্বীকৃতি শুধু চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য নয়, বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এটি দেশের প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকেও আরও শক্তিশালী করবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা মনে করছেন, চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে গৃহীত আধুনিকায়ন, ডিজিটাল রূপান্তর ও সেবার মানোন্নয়নের ধারাবাহিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বৈশ্বিক শিপিং জায়ান্ট সিএমএ সিজিএমের এই প্রশংসা সেই সাফল্যেরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL