শিরোনামঃ

সব জল্পনার অবসান, পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

পদত্যাগপত্র গ্রহণ নিয়ে বিকেল ৫টায় স্পিকারের জরুরি সংবাদ সম্মেলন; ২০২৮ পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও দায়িত্ব ছাড়লেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে আজ (শুক্রবার) বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ-পরবর্তী জরুরি সংবাদ সম্মেলন শুক্রবার বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে (পূর্ব ব্লক, লেভেল-১) অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করার পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও আলোচনা তীব্র হয়ে ওঠে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তার পদত্যাগ দাবি করে আসছিলেন। এ দাবিকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক কর্মসূচি ও আন্দোলনও অনুষ্ঠিত হয়।

গত কয়েকদিন ধরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন চলছিল। বঙ্গভবন, সরকারের উচ্চপর্যায় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এ বিষয়ে নানা আলোচনা থাকলেও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। শুক্রবার তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ফলে সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে, কে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সূচি কীভাবে নির্ধারণ করা হবে—এসব বিষয়ে এখন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিকেল ৫টায় স্পিকারের সংবাদ সম্মেলনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ গ্রহণ এবং পরবর্তী সাংবিধানিক পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনও এখন সেই ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে আছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL