শিরোনামঃ

মানবপাচারে হাবিব-রহিম-আলম-রুবেল চক্র নাজিম উদ্দিন

নাজিম উদ্দিন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

কক্সবাজারের পেকুয়া ও পাশ্ববর্তী এলাকায় সক্রিয় একটি বেপরোয়া মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি পেকুয়া ও বাঁশখালী এলাকা থেকে শত শত যুবক ও কিশোরকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচার করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় ১০জন নিখোঁজ হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, পেকুয়ার টৈটং কেরুণছড়ি এলাকার আবুল হোসেন, তার মেয়ে হাসিনা বেগম ও তার স্বামী চকরিয়া হারবাং এলাকার হাবিবুর রহমান, টৈটং সরকার মুরা এলাকার বত ও তার স্ত্রী এই চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য। এছাড়া রাজাখালী নতুন ঘোনা এলাকার হাফেজ বশিরের ছেলে আবদুর রহিম, মাতবরপাড়া এলাকার আহমদ ছবির মেয়ের জামাই নুরুল আলমও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও পেকুয়া সদর তেলিয়াকাটা এলাকার ওমর ফারুক ও খাইরুল আমিন, বাঁশখালী ছনুয়া এলাকার রুবেল ও ফোরকান এবং টেকনাফ এলাকার সাহাব উদ্দিন ও আবদুল্লাহকেও এই চক্রের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, এই সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে পেকুয়া ও বাঁশখালী এলাকা থেকে পাঁচ শতাধিক যুবক ও কিশোরকে মালয়েশিয়ায় পাচার করেছে।

গত ৯ তারিখ আন্দামান সাগরে একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় পেকুয়া উপজেলার বেশ কয়েকজন যুবক নিখোঁজ হন। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন রাজাখালী ইউনিয়নের মিয়াপাড়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে মো. বেলাল, আহমদ ছবির ছেলে মো. এহেসান, আবদুল মালেকের ছেলে রহিম, হাজিরপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহেল, নুরুল আমিনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম, নতুন ঘোনা গোদারপাড়ার বাদশা মিয়ার ছেলে রুহুল কাদের, শহিদুল্লাহর ছেলে মানিক, আবদুর রহিমের ছেলে এমরান, আবদুল মালেকের ছেলে মিজান এবং মাহামুদুল করিমের ছেলে মানিক। এছাড়া পেকুয়া সদর মেহেরনামা তেলিয়াকাটা এলাকার আজিজুল হক ও ইছাক মিয়ার নামও এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হিসেবে উঠে এসেছে।

নিখোঁজ এমরানের পিতা আবদুল রহিম ও মা খুলছুমা বেগম জানান, স্থানীয় দালাল আবদু রহিম তাদের সন্তানকে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার কথা বলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। একই এলাকার নিখোঁজ মিজানের বড় ভাই বলেন, তারা লবণের শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার ভাই খুবই সহজ-সরল একজন কিশোর ছিল। তাকে মোবাইল ফোনে প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফ থেকে বোটে তোলা হয়, এরপর থেকেই সে নিখোঁজ।

নিখোঁজ মানিকের পিতা মাহামুদুল করিম জানান, তার ছেলে সাতকানিয়ায় মাটি কাটার কাজ করত। সেখান থেকে টেকনাফে গিয়ে বোটে ওঠে। পরে শুনেছেন নৌকাটি ডুবে গেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আবদু রহিমের পিতা হাফেজ বশির বলেন, তার ছেলে কয়েক মাস আগে সাগরপথে মালয়েশিয়া গেছে। বর্তমানে যারা যাচ্ছে, তাদের শুধু ‘সিস্টেম’ দেখিয়ে দিয়েছে দালালির সঙ্গে জড়িত নয়।

অন্যদিকে, টেকনাফের সাহাব উদ্দিন দাবি করেন, বাঁশখালীর রুবেল, রাজাখালীর নুরুল আলম ও হাবিবুর রহমানের মাধ্যমে তিনি লোকজন বিদেশে পাঠান এবং ইতোমধ্যে পেকুয়া থেকে কয়েকশ মানুষ পাচার করেছেন।

টৈটং কেরুণছড়ি এলাকার আবুল হোসেন বলেন, তার মেয়ের জামাই হাবিবুর রহমান শতাধিক যুবক-কিশোরকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে গেছে এবং তারা সবাই ভালো আছে। তিনি আরও জানান, অগ্রিম হিসেবে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়, বাকি টাকা মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর পরিশোধ করতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দালালচক্র প্রলোভন দেখিয়ে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পাঠাচ্ছে। এতে জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে এবং অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা মানবপাচার চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL