শিরোনামঃ

বাঁশখালী ইকোপার্কে ভাঙা সেতু, কাঠের সাঁকোতেই চলাচল-হুমকিতে পর্যটন

ছৈয়দুল আলম
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র বাঁশখালী ইকোপার্ক বর্তমানে অবহেলা ও ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ক্রমেই পর্যটকশূন্য হওয়ার পথে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন সড়ক ও একটি ভগ্নপ্রায় সেতু এই অবস্থার জন্য প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ইকোপার্কে যাওয়ার একমাত্র ভরসা একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু, যা দিয়ে কেবল মোটরসাইকেল, সিএনজি ও রিকশার মতো ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের গাড়ি সেতুর আগে রেখে বাকি পথ হেঁটে যেতে হচ্ছে।
২০২৪ সালে ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’-এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢলে ইকোপার্কের প্রধান গেট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে যায়। পরবর্তীতে অস্থায়ীভাবে কাঠের সেতু নির্মাণ করা হলেও এখনো তা স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে বড় যানবাহনের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে অটোরিকশা ও সিএনজি চলাচল করলেও অনেক ক্ষেত্রে পর্যটকদের হেঁটেই পার্কে প্রবেশ করতে হচ্ছে।
বাঁশখালী প্রধান সড়ক থেকে ইকোপার্ক পর্যন্ত মোট সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৩.৩৪ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রতি ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ ফুট প্রশস্ত করে সংস্কার করা হয়েছে। তবে বাকি প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক এখনো সংস্কারের বাইরে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই অংশের জন্য বরাদ্দ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সংকীর্ণ ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে পর্যটকবাহী যানবাহন পার্কে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে অনেক পর্যটক মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যা স্থানীয় পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চট্টগ্রাম শহর থেকে আগত পর্যটক আয়ান মাহমুদ বলেন, “বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে আমরা একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে এখানে এসেছিলাম। কিন্তু ভাঙা কাঠের সেতুর কারণে আমাদের গাড়ি আটকে যায়। পরে নারী ও শিশুদের নিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ হেঁটে পার্কে পৌঁছাতে হয়েছে। এভাবে হলে কেউ এখানে আসতে আগ্রহী হবে না।”
পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ইকোপার্কের ইজারাদারও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসরাঈল হক বলেন, “সম্প্রতি প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। তবে অজ্ঞাত কারণে বাকি দেড় কিলোমিটার কাজ বন্ধ রয়েছে। সড়ক ও সেতু সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু এখনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।”
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মুহাম্মদ ইফরাদ বিন মুনীর জানান, “সেতুসহ অবশিষ্ট সড়ক সংস্কারের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করা বাঁশখালী ইকোপার্ক একসময় দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অন্যতম ছিল। তবে ২০০৮ সালে পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর থেকে এর উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পার্কের অবকাঠামো নষ্ট হয়ে গেছে এবং পর্যটকদের আগ্রহও কমে এসেছে।
একসময় পাখির কিচিরমিচির, নানা প্রজাতির প্রাণীর বিচরণ, স্বচ্ছ পানির লেক, আঁকাবাঁকা পথ, দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু এবং পর্যটন টাওয়ার থেকে মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় জমাতেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু এখন ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে সেই জৌলুস হারাতে বসেছে সম্ভাবনাময় এই পর্যটনকেন্দ্র।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL