শিরোনামঃ

বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে দ্বিমুখী বিজ্ঞপ্তি: বিভ্রান্তি কাটাতে এডহক কমিটির অবস্থান

ছৈয়দুল আলম
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

সোমবার ২০ এপ্রিল আদালত ভবনে অনুষ্ঠিতব্য, বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত পরস্পরবিরোধী বিজ্ঞপ্তিতে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। একই দিনে নির্বাচন বাতিল ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা আসায় দোটানায় পড়েছেন সমিতির সদস্যরা।
বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রথমে এডহক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন মাতব্বার নূরীর স্বাক্ষরে একটি জরুরি নোটিশ প্রকাশ করা হয়। ওই নোটিশে নির্বাচন কমিশনের কিছু কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ২০ এপ্রিল নির্ধারিত নির্বাচনসহ সকল কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
তবে একই দিনেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট দিলীপ কান্তি সুশীলের স্বাক্ষরে আরেকটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয় এবং সকল সদস্যকে যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় কান না দেওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়।
পরবর্তীতে এ পরিস্থিতিতে এডহক কমিটির পক্ষ থেকে নতুন করে অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। এডভোকেট নুরুল আবছার, এডভোকেট দীপংকর দে, এডভোকেট মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এবং এডভোকেট দিলীপ কুমার দাশ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এডহক কমিটি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না এবং নির্বাচন কমিশন গঠনের পর নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের আর কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সদস্য সচিব নিজ উদ্যোগে যে নোটিশ জারি করেছেন তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিমূলক। তাই এ ধরনের নোটিশে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সমিতির সকল সদস্যকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা হয় যে, ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পূর্বনির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৬ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভাপতি পদে দুই প্রার্থীর মধ্যে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় ওই পদে আর কোনো প্রার্থী না থাকায় মোহাম্মদ নাছেরকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট দিলীপ কান্তি সুশীলসহ সহকারী নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো. সাইফুদ্দিন ও অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিনের স্বাক্ষর রয়েছে।
এদিকে একই দিনে বিপরীতমুখী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ঘটনায় আইনজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, কোন বিজ্ঞপ্তি কার্যকর তা নিয়ে তারা দ্বিধায় রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এডহক কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবই এ পরিস্থিতির মূল কারণ। দ্রুত যৌথ ও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL