শিরোনামঃ

দুই মাসেই শেষ ৪ হাজার সাজনা গাছ, ক্ষতি ২৫ লাখ

দুর্বৃত্তরা উপড়ে ফেলেছে শতাধিক তরমুজের চারা

মামুন খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় প্রায় চার একর জমিতে গড়ে তোলা চার হাজার বারমাসী সাজনা গাছের বাগান কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। বাগান তৈরির মাত্র দুই মাসের মাথায় ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার অধিকাংশ সাজনা গাছ কেটে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপড়ে ফেলা হয়েছে শতাধিক তরমুজের চারা। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন উদ্যোক্তারা।

 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার হরিধন মগপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে বাগানে গিয়ে গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান বাগানের পাহারাদার। পরে খবর পেয়ে উদ্যোক্তা ও বাগানসংশ্লিষ্টরা সেখানে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখতে পান।

 

বাগানসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে প্রায় দুই মাস আগে হরিধন মগপাড়া এলাকায় চার একর জমিতে ‘ইন্ডিয়ান ওডিসি থ্রি’ জাতের বারমাসী সাজনা বাগান গড়ে তোলেন সুদীপ্ত জামানসহ পাঁচ তরুণ উদ্যোক্তা। বাগানে প্রায় চার হাজার সাজনা গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। পরিচর্যায় গাছগুলো এরই মধ্যে ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চতায় বেড়ে উঠেছিল।

 

বাগানের ম্যানেজার মো. শামসুল হক বলেন, “বৃহস্পতিবার সারাদিন আমি বাগানেই ছিলাম। শনিবার সার ও কীটনাশক দেওয়ার কথা ছিল। সকালে কেয়ারটেকার ফোন করে গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি জানান। পরে বাগানে এসে দেখি ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার সাজনা গাছগুলো মাটিতে পড়ে আছে।”

 

তিনি বলেন, “তরুণ উদ্যোক্তারা অনেক স্বপ্ন নিয়ে বাগানটি করেছিলেন। এভাবে গাছগুলো কেটে ফেলায় তাঁদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। সাজনা গাছের পাশাপাশি শতাধিক তরমুজের চারাও উপড়ে ফেলা হয়েছে।”

 

বাগানের উদ্যোক্তা মো. আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “স্থানীয় এক মারমা ব্যক্তি শুরু থেকেই বাগানের বিরোধিতা করে আসছিলেন। রাতের আঁধারে বাগানের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে আমাদের অন্তত ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

 

তবে এ ঘটনায় কাউকে এখনও শনাক্ত করা যায়নি।  উদ্যোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

মাটিরাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশরাফুল মুন্না বলেন, “এ ঘটনায় থানায় এবং মাটিরাঙ্গা সেনা জোনে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ মিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

স্থানীয়ভাবে কৃষি ও বাগানভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের স্বাবলম্বী হওয়ার প্রচেষ্টার মধ্যে এ ধরনের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, বাগানটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL