চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে প্রাইভেটকার ছিনতাইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকেই তাদের আটক করা হয়। এ সময় ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অ্যানেসথেশিয়া-জাতীয় তরল পদার্থও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরের অলংকার মাইক্রোস্ট্যান্ড থেকে যাত্রীবেশে থাকা তিন ব্যক্তি চট্ট-মেট্রো-গ-১৩-০৪৪০ নম্বরের একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করেন। চালক মো. সেলিম (৪৩) তাদের নিয়ে মীরসরাই উপজেলার ১১ নম্বর মঘাদিয়া ইউনিয়নের ইকোনমিক জোন এলাকায় যান।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইকোনমিক জোন সড়কের সিপির মোড় সংলগ্ন আনসার চেকপোস্টের প্রায় ২০০ গজ পূর্বে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছিনতাইকারীরা চালকের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে। পরে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে প্রাইভেটকারটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে মীরসরাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে। এতে ছিনতাই হওয়া প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন শেখ মোহাম্মদ আল ইয়াছা (৩০) ও জোবেদা খানম চৌধুরী (৪৫)। তাদের কাছ থেকে একটি থ্রেড কাটার, একটি ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, একটি ভায়ালে সংরক্ষিত সাদা রঙের অ্যানেসথেশিয়া-জাতীয় তরল পদার্থ, একটি বোতলে নেশাজাতীয় তরল এবং একটি গামছা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীবেশে বিভিন্ন প্রাইভেটকার ভাড়া করে নির্জন স্থানে নিয়ে চালকদের ওপর হামলা চালিয়ে গাড়ি ছিনতাই করত। পরে ছিনতাই করা গাড়িগুলো একটি চোরাই গাড়ি সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করত।
তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত শেখ মোহাম্মদ আল ইয়াছা এবং পলাতক আসামি শেখ মো. জাহাঙ্গীর (৪১) আপন ভাই। গ্রেফতারকৃত জোবেদা খানম চৌধুরী পলাতক জাহাঙ্গীরের স্ত্রী।
এ ঘটনায় চালক মো. সেলিমের অভিযোগের ভিত্তিতে মীরসরাই থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক শেখ মো. জাহাঙ্গীরসহ সংঘবদ্ধ চক্রের অন্য সদস্য এবং চোরাই গাড়ি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালনা করা হবে।