শিরোনামঃ

কায়সার কামালের অসাংবিধানিক ‘আদিবাসী’ শব্দ প্রয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানালো পিসিসিপি

রাঙামাটি প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগ্রহীত
ছবি: সংগ্রহীত

রাষ্ট্রীয় কাঠামোর শীর্ষপদে বসে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের অসাংবিধানিক ‘আদিবাসী’ শব্দের অনধিকার চর্চা ও দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।

গত ১৪ জুন, ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের (৩১৯ নং) সচেতন ও দেশপ্রেমিক সংসদ সদস্য আন্না মিনজ অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে নিজেকে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ ও ‘সমতলের নৃ-গোষ্ঠী’র গর্বিত প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও, সংসদের সভাপতিমন্ডলীর শীর্ষ আসনে বসা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সম্পূর্ণ অযাচিত, অসাংবিধানিক এবং অদূরদর্শী ‘আদিবাসী’ শব্দ প্রয়োগের তীব্র নিন্দা, গভীর ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ১৮ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায় চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।

বিবৃতিতে পিসিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়,
দেশের সর্বোচ্চ আইন ও পবিত্র সংবিধান যেখানে দ্ব্যর্থহীনভাবে মূল বাঙালি জনগোষ্ঠী ব্যতীত অন্যান্য ভিন্ন সংস্কৃতির অধিকারীদের ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়’ (অনুচ্ছেদ ২৩ ক) হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে, সেখানে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে আসীন একজন উচ্চশিক্ষিত আইনজ্ঞের মুখে এই অসাংবিধানিক শব্দের বারবার ব্যবহার দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক গভীর চক্রান্তের শামিল।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দের কোনো অস্তিত্ব নেই। অধিকন্তু, ২০২২ সালের ১৯ জুলাই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা এবং ২০১৯ সালের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর স্পষ্টীকরণ পত্রে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও জেলা পরিষদ আইনেও ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, যা স্বয়ং উপজাতীয় নেতারা স্বাক্ষর করে মেনে নিয়েছিলেন। ডেপুটি স্পিকারের এই বক্তব্য সরকারের সকল আইনি প্রজ্ঞাপন ও সাংবিধানিক বিধিনিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখানোর শামিল।

বিবৃতিতে পিসিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে আরো বলা হয়,ডেপুটি স্পিকার জনাব কায়সার কামাল ইতিপূর্বেও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন ইতিহাস-বিবর্জিত ও রাষ্ট্রবিরোধী তত্ত্ব দিয়ে দাবি করেছিলেন যে, উপজাতিরাই এ দেশের প্রথম বাসিন্দা এবং বাঙালিরা তাদের জায়গা দখল করেছে। উয়ারী-বটেশ্বর বা পুণ্ড্রবর্ধনের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ অনুযায়ী এই বাংলায় বাঙালির সভ্যতার ইতিহাস আড়াই থেকে তিন হাজার বছরের পুরোনো। পক্ষান্তরে, এই অঞ্চলের উপজাতিদের ইতিহাস ৩০০-৩৫০ বছরের বেশি নয়, যা পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০-এর ৫২ ধারাতেও স্পষ্ট। ডেপুটি স্পিকারের এই বক্তব্য কোটি কোটি বাঙালিকে নিজ ভূমিতে ‘পরবাসী’ বা ‘ভূমিদস্যু’ বানানোর এক ঘৃণ্য অপচেষ্টা।

বিবৃতিতে পিসিসিপি বলেন,আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ডেপুটি স্পিকারের এই অদূরদর্শী বক্তব্যকে পার্বত্য অঞ্চলের উগ্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গ্রুপগুলো ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে 'স্টেট রেফারেন্স' বা রাষ্ট্রীয় দলিল হিসেবে প্রচার করছে। জাতিসংঘের ২০০৭ সালের আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্রের ৩, ৪, ২৬ ও ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো জনগোষ্ঠী ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি পেলে তারা স্ব-নির্ধারণের অধিকার, স্বায়ত্তশাসন এবং ঐতিহ্যগত ভূমির মালিকানার নামে দেশের এক-দশমাংশ (পার্বত্য অঞ্চল) থেকে দেশের মূল জনগোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহারে বাধ্য করার আইনি ভিত্তি পেয়ে যায়। ডেপুটি স্পিকারের এই বক্তব্য প্রকারান্তরে স্বাধীন 'জুম্মল্যান্ড' বা 'খ্রিস্টান কুকি ল্যান্ড' গঠনের আন্তর্জাতিক নীল-নকশাকে সহায়তা করার শামিল।

পিসিসিপি বিবৃতিতে বলেন, আমাদের সুনির্দিষ্ট ও জোরালো দাবি- জাতীয় সংসদের পবিত্র কার্যবিবরণী থেকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এই অসাংবিধানিক ও বিপজ্জনক বক্তব্য অতিবিলম্বে এক্সপাঞ্জ (প্রত্যাহার) করতে হবে।
ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের অখণ্ডতার স্বার্থে সরকারের সকল স্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এই ধরণের অসাংবিধানিক শব্দ প্রয়োগ থেকে বিরত রাখতে কঠোর আইনি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

বিবৃতিতে পিসিসিপি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চায়, বাংলাদেশের মানচিত্রকে খণ্ড-বিখণ্ড করার এবং শান্ত পার্বত্য অঞ্চলসহ সমতলের শান্তি বিনষ্ট করার কোনো আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র দেশের ছাত্র ও পার্বত্য চট্টগ্রামবাসী মেনে নেবে না। অবিলম্বে এই অসাংবিধানিক বক্তব্য প্রত্যাহার করা না হলে দেশপ্রেমিক ছাত্র জনতাকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। ডেপুটি স্পিকারের জন্য যদি পাহাড়ের পরিস্থিতি খারাপ হয় তার দায় সম্পূর্ণ ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের উপর বর্তাবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জমির উদ্দিন।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL