রামুর চাকমারকুলে তানিয়া আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূকে মারধরের পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তার স্বামী শাহরিয়াতের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগটি তুলেন নিহতের পরিবার। ২২এপ্রিল (বুধবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে চাকমারকুল ইউনিয়নের মিস্ত্রী পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তানিয়া ওই এলাকার গ্রাম পুলিশ মকতুল হোসেনের পুত্রবধূ।
নিহতের পরিবারের দাবী, তানিয়াকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। নিহতের বড় বোন জানান, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ইমুতে একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন তানিয়া। সেখানে তিনি আর্তনাদ করে বলেছিলেন: “আমাকে অনেক মারধর করছে, আমাকে বাঁচাও। না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।”
এই ভিডিও বার্তা পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তানিয়ার মৃত্যুর খবর পায় তার পরিবার। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে পৌঁছালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তানিয়া ও শাহরিয়াতের বিয়ে হয়েছিল প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে। শুরুতে পরিবার রাজি না থাকলেও পরবর্তীতে তানিয়ার সুখের কথা চিন্তা করে মেনে নেয়। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে শাহরিয়াত পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন বলে দাবি তানিয়ার স্বজনদের ।
তারা বলেন, স্বামী শাহরিয়াতের পরকীয়া জেনে ফেলায় তানিয়ার ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।
ঘটনার দিনও এই বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তানিয়াকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। মারধরের চিহ্ন লুকাতে এবং ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে
দেওয়া হয়।
নিহত তানিয়ার এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অবুঝ এই শিশুটিকে এতিম করার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তানিয়ার স্বজনেরা। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ঘাতক স্বামী ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী শাহরিয়াত পলাতক রয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান।