বান্দরবানের রুমা উপজেলায় টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রভাব এখনও কাটেনি। গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বহু গ্রাম এখনো পানির নিচে রয়েছে। প্লাবিত হয়েছে অসংখ্য বসতঘর,কৃষিজমি,জুমের ধানক্ষেত,ফলের বাগান এবং গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।
স্থানীয়দের জানান,টানা আট দিনের ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় অনেক পরিবার এখনও নিজ নিজ ঘরে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছে না। অনেক বাড়িঘর আংশিক বা সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে থাকায় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জুম চাষের ধানক্ষেত, বিভিন্ন মৌসুমি ফসল এবং ফলের বাগান। এতে কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকের বছরের একমাত্র আয়ের উৎস জুম চাষ হওয়ায় ফসলের ক্ষতিতে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা বলেন,"আমার ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রামই বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও তেমন কোনো এলাকা ক্ষয়ক্ষতির বাইরে নেই। এখনো অনেক জায়গা পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। ফলের বাগান, জুমের শাকসবজি ক্ষেতসহ কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।"
পাইন্দু ইউনিয়নের চান্দা হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা থুইঅংপ্রু মারমা বলেন,“এ বছর আমাদের এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত,জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ধসের কারণে ফলের বাগান ও জুমের ধানক্ষেত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। একদিকে পানি জমে ফসল নষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে পাহাড়ধসে কৃষিজমি ও বাগানেরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গালেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো বলেন, “টানা ভারী বৃষ্টিপাত রুমা উপজেলার মানুষের জীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ ও ক্ষতির সৃষ্টি করেছে। এই দুর্যোগে উপজেলার অনেক পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ধসে অনেকের বসতবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়েছে।
এছাড়া যেসব কৃষক জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জুমের ধানক্ষেত পাহাড়ধসে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফলের বাগানও নষ্ট হয়ে গেছে, যার কারণে অনেক পরিবার তাদের বছরের প্রধান আয়ের উৎস হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে। অনেক মানুষ যে শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে চাষাবাদ করেছেন, সেই বিনিয়োগও আর উঠে আসবে না।
এদিকে,গ্রামগুলোর সঙ্গে রুমা বাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিভিন্ন স্থানে সড়ক তলিয়ে থাকা এবং চলাচলের পথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী,নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও চিকিৎসাসেবা নিতে রুমা বাজারে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন। এতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পানি ধীরে ধীরে নেমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখনও সময় লাগবে বলে মনে করছেন তারা।