রাঙামাটির লংগদুতে গৃহবধূ আছিয়া আক্তার (১৮)-এর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী তাঁকে মারধর করে মুখে বিষ (কীটনাশক) ঢেলে হত্যা করেছেন। তবে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে আছিয়া নিজেই কীটনাশক পান করেছিলেন।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হওয়ার পর নিহতের স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের যাত্রামুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আছিয়া আক্তার ওই গ্রামের আছর আলীর মেয়ে এবং হযরত আলীর স্ত্রী।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য, স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হযরত আলী আছিয়াকে মারধর করেন। পরে তাঁকে জোর করে মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অন্যদিকে হযরত আলীর পরিবারের দাবি, পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে আছিয়া বাড়িতে থাকা কীটনাশক নিজেই পান করেন। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আছিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ৩১ জুলাই লংগদু থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক)/৩০ ধারায় মামলা করা হয়। মামলায় নিহতের স্বামী মো. হযরত আলীকে (২৪) ১ নম্বর এবং তাঁর বাবা আবুল কালামকে (৬০) ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়ার নির্দেশনায় উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযান চালান। শুক্রবার রাত ২টা ৫ মিনিটের দিকে আটারকছড়া ইউনিয়নের যাত্রামুড়া এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হযরত আলী ও আবুল কালাম ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
লংগদু থানার পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আছিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।