দক্ষিন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া বটতলী মোটর স্টেশনে যানজটের ভোগান্তি থেকে রেহাই পাচ্ছে না পথচারী থেকে যাত্রী পর্যন্ত । চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার বটতলী স্টেশনে দু'পাশে গড়ে ওঠেছে অসংখ্য হকার দোকান। তাছাড়া সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে মহাসড়কের উপর গড়ে উঠে অসংখ্য ভাসমান দোকান। মহাসড়কের উপর এসব ভাসমান দোকানের ফলে যানজটের তীব্রতা বেড়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বটতলী মোটরস্টেশনের দক্ষিণের পোষ্ট অফিস থেকে শুরু করে পুরাতন মা ও শিশু হাসপাতাল পর্যন্ত মহাসড়কের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে কয়েক শতাধিক ভাসমান দোকান ও সাহেব বাজার। তাছাড়া সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে হকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মহাসড়কের উপরে বসে সাহেব বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এতে যানবাহন চলাচলে প্রচুর বিঘ্ন ঘটায়।
আবার অনেক জায়গায় অবৈধ পার্কিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের চলাচলে তৈরি হয়েছে প্রতিবন্ধকতা।
অন্যদিকে বটতলী ষ্টেশনের উভয় পাশে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা পার্কিং। এ ছাড়া বিকাল হলেই আসতে শুরু করেন পেঁয়াজু, ফুসকা, চানাচুর ,ফলমূল, চটপটি, বিরিয়ানি বিক্রেতারা। এতে যানজট বেড়ে যাচ্ছে।
পথচারী তাজ উদ্দীন বলেন, ফুটপাত দখল করে ভাসমান দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করায় পথচারীদের চলাচল করতে অনেক ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ফলে পথচারীরা মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছেন। এতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং ও মহাসড়কের ওপর ভ্যানগাড়ি রেখে মালামাল বিক্রি করায় পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসীয় কামাল বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকার নীরবতাকে কাজে লাগিয়ে ভাসমান ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান তৈরি করছে। প্রশাসন লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে দায় সারে। পরে আর তদারকি করে না। মাঝে মধ্যে অবৈধ স্থাপনা ও ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হলেও দুই দিন পার না হতেই প্রশাসনের চোখের সামনেই আবারও দোকান নির্মাণ করে থাকে। উচ্ছেদের পাশাপাশি সঠিকভাবে তদারকি করলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।
ভাসমান কাপড় কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে আমাদের দোকান উচ্ছেদ করা হয়ে থাকে। এক প্রকার ঝুঁকি নিয়ে এখানে ব্যবসা করছি। সরকারের প্রতি আমাদের দাবি, ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য সকল ভাসমান ব্যবসায়ীদের একটি নির্দিষ্ট জায়গাতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।’
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজীদ বিন আখন্দ বলেন, বটতলী ষ্টেশনে ফুটপাত দখলদারদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন অনেক বার অভিযান পরিচালনা করেছে এবং জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।