থানায় বসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অপরাধ ও সামাজিক নানা বিষয়ে সচেতন করতে এবার সরাসরি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে পাঠ দিলেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। প্রায় দুই ঘণ্টার এ ব্যতিক্রমী ক্লাসে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন ইভটিজিং, মাদক, কিশোর গ্যাং, বাল্যবিবাহ, সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মাদক ও কিশোর অপরাধবিরোধী সচেতনতামূলক র্যালি। এ সময় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদেরও পুরস্কৃত করা হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) লোহাগাড়া উপজেলার শাহপীর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত ক্লাস চলাকালে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হন ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। পুলিশের একজন কর্মকর্তাকে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা রূপ নেয় প্রাণবন্ত আলোচনায়। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ থেকে নিজেদের দূরে রাখার কৌশল ও বিপদে পড়লে করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেন তিনি।
আলোচনায় ওসি বলেন, ইভটিজিং, মাদক, কিশোর গ্যাং কিংবা যেকোনো অপরাধের শিকার হলে ভয় পেয়ে চুপ থাকা যাবে না। বিষয়টি পরিবার, শিক্ষক অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও তরুণদের সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্লাসে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ, মাদকাসক্তির ভয়াবহতা, কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়ার পরিণতি, ইভটিজিং, নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ এবং নৈতিক মূল্যবোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, কিশোর বয়সে অনেকেই বন্ধুদের প্ররোচনা, কৌতূহল কিংবা অসচেতনতার কারণে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। শুরুতেই সচেতন হলে এসব ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তাই ভালো বন্ধু নির্বাচন, পরিবারের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ এবং পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় কোনো শিক্ষার্থী বিপদে পড়লে কিংবা আশপাশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটতে দেখলে তা গোপন না রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আইনি সহায়তা নেওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কেও অবহিত করা হয়।
পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে র্যালিতে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। র্যালিটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
অনুষ্ঠানের আরেকটি পর্বে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, শ্রেণিকক্ষে পুলিশের একজন কর্মকর্তার সরাসরি উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনা আইন সম্পর্কে তাদের ধারণা বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশের প্রতি আস্থা তৈরিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশের সরাসরি উপস্থিতিতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম কিশোর অপরাধ, মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিতভাবে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপরাধবিরোধী সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ও আরও জোরদার হবে।