শিরোনামঃ

সন্দ্বীপ থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী ১৬ ঘণ্টা পর কুমিল্লায় উদ্ধার

সন্দ্বীপ প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: দৈনিক দেশের কথা
ছবি: দৈনিক দেশের কথা

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম সানজিদা আক্তার আনিশা (১২)। তিনি সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলী বাজার এলাকার ব্যবসায়ী শাহাদাতের মেয়ে এবং স্থানীয় আনন্দ পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আনিশার বাবা শাহাদাত ও পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ব্যবসায়ী আমির হোসেন আজাদ উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে স্কুল ছুটির পর আনন্দ পাঠশালার প্রধান ফটক থেকে আনিশা নিখোঁজ হয়। বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি এক যুবকের সঙ্গে স্কুল গেট থেকে বের হয়ে একটি অটোরিকশায় ওঠেন। পরে জানা যায়, ওই যুবক তাঁর মায়ের অসুস্থতার কথা বলে আনিশাকে সঙ্গে নিয়ে যান।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবকের নাম আরিফ (২১)। তাঁর বাড়ি রংপুর জেলায়। প্রায় ছয় মাস আগে পর্যন্ত তিনি আনিশার বাবার বয়লার মুরগির খামারে কাজ করতেন। পারিবারিক পরিচিতির কারণে অতীতেও তিনি কয়েকবার আনিশাকে স্কুল থেকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সন্দ্বীপ থানা–পুলিশ অটোরিকশার চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হয়, অভিযুক্ত যুবক ওই দিনই আনিশাকে নিয়ে সন্দ্বীপ ছেড়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
এদিকে নিখোঁজের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু হয়। ফেসবুকে মুহাম্মদ সারোয়ার ঠাকুর নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, বিকেল তিনটার দিকে কুমিরা–গুপ্তছড়া নৌপথে চলাচলকারী একটি সার্ভিস ট্রলারের কেবিনে স্কুলের পোশাক পরা আনিশাকে তিনি দেখতে পান।

আমির হোসেন আজাদের দাবি, অভিযুক্ত যুবক আনিশাকে কোনো ওষুধ প্রয়োগ করে অস্বাভাবিক অবস্থায় সীতাকুণ্ডের কুমিরা হয়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা বাজার এলাকায় নিয়ে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আনিশার জ্ঞান ফিরলে তিনি কান্নাকাটি শুরু করেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত যুবক সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয় বাসিন্দারা মেয়েটির পরিচয় জানতে পেরে তাঁর পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে আনিশার বাবা ও আমির হোসেন আজাদ বুড়িচংয়ে গিয়ে শুক্রবার ভোরে তাঁকে উদ্ধার করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL