চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর জামে মসজিদের দানবাক্স থেকে একমুঠ টাকা নেওয়ার অভিযোগে ৫ম শ্রেণিপড়ুয়া এক মাদরাসা ছাত্রের পরিবারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কেরানীহাট এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের নাম উল্লেখপূর্বক সাতকানিয়া থানায় পৃথক ৩টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই মাদ্রাসা ছাত্রের দাদি ও ভুক্তভোগী মোমেনা খাতুন।
মোমেনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আমার নাতির বয়স ১১ বছর। সে মসজিদের দানবাক্স থেকে একমুঠ টাকা নেওয়ায় সালিসি বৈঠকের মাধ্যমে আমাদেরকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়াও আমাদের কাছ থেকে ৩টি খালি স্টাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা আমার ছেলেকেও মারধর করেছেন। এসব বিষয় নিয়ে আমার চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তরা প্রায় সময় আমাদের বিএস রেকর্ডভুক্ত পারিবারিক কবরস্থানে স্থানীয়দের মরদেহ দাফন করে আসছিল। আমি তাদেরকে বেশ কয়েকবার বারণ করলেও তারা কর্ণপাত করেনি। মূলত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিকভাবে আমাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অভিযুক্তরা এসব করছেন।
মাদরাসা ছাত্রের পিতা ইমরান হোসেন বলেন, আমার ছেলেসহ আরও ২ জন শিশু মসজিদের দানবাক্স থেকে একমুট টাকা নিয়ে দেওদীঘি সেন্টারে গিয়ে নাস্তা খেয়ে পেলেন। অভিযুক্তরা এ ঘটনা আমাকে না জানিয়ে সালিসি বৈঠক ডেকে অতর্কিতভাবে মারধর করেন। এরপর তারা খালি স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষরও নিয়েছেন। আমার ছেলে সঙ্গে থাকা অন্য ২ শিশুকে কিসের বিনিময়ে জরিমানা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে আমরা জানতে চাই। জরিমানার টাকা না দিলে তারা আমার বাড়িঘর ভাংচুরের হুমকি দিয়েছেন। ইতিমধ্যে তারা বাড়িতে হামলা করেছে। আমি জরুরি সেবা ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করেন।
ওই মাদরাসা ছাত্র বলেন, আমিসহ আরও দুজন মিলে মসজিদের দানবাক্স থেকে একমুঠ টাকা নিয়ে নাস্তা খেয়েছিলাম। পরে আমি ট্রেনে উঠে কক্সবাজার চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেখানকার লোকজন আমাকে বাড়িতে দিয়ে যান। এরপর আব্বু আমার পায়ে শিকল বেঁধে মাদরাসায় দিয়ে আসেন। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি আমাকে সেখান থেকে একটি রুমে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে একজনের হাতে থাকা তার দিয়ে আমাকে ফাঁসি দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মসজিদের দানবাগ থেকে নেওয়া টাকা আমার আম্মুকে দিয়েছি বলে স্বীকারোক্তি নেন। তখন আমি ভয়ে আমার আম্মুর নাম বলেছি। এরপর তারা আমার আব্বুকেও মারধর করেছে।