চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে তাহমিদুল হাসান হামীম (১৯) নামে এক তরুণকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কেরানীহাট সিটি সেন্টারের মারামারির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রোহান উদ্দিনকে (১৯) পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক পরবর্তী গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
একইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন সংলগ্ন মাস্টার বাড়ি এলাকা থেকে অভিযুক্তকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়।
নিহত তরুণ তাহমিদুল হাসান হামীম উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাসমত আলী সিকদার দোকানের পার্শ্ববর্তী আলী হাদি বাড়ির মৃত ফরিদুল আলমের ছেলে।
অপরদিকে, গ্রেপ্তার রোহান উদ্দিনকে একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দাবাদ কাজিরখীল এলাকার ওসমান গণির ছেলে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে গ্রেপ্তার রোহান আমিরাবাদ এলাকায় যাচ্ছিলেন। ওই সময় তার প্রতিবেশী শাহানুরসহ আরও কয়েকজন তার সঙ্গে একটি গাড়িতে উঠেন। পথিমধ্যে ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও প্রসারকে কেন্দ্র করে নিহত হামীমের সঙ্গে শাহানুর ও অন্যান্যদের মারামারি হয়। সেখানে হামীম মারধরের শিকার হন। ওই সময় রোহান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু হামীমের ধারণা, রোহানের সেল্টারেই তাকে মারধর করা হয়েছে। তাই তাকে পরবর্তীতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
আরও জানা যায়, পরবর্তীতে হামীমের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাসমতের দোকান এলাকায় মহড়া দেয়। সেখান থেকে তারা কাজিরখীলে গিয়েও মহড়া দেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য তারা সবাই কেরানীহাট সিটি সেন্টারে জড়ো হন। সেখানে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে হামীম একটি লোহার স্টিক দিয়ে রোহানের হাতে আঘাত করেন। এর পরপরই রোহান রাগান্বিত হয়ে হামীমের পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সটকে পড়েন।
এ সময় সেখানে উপস্থিত অন্যান্যদের একাংশ আহত হামীমকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান এবং অপর অংশটি রোহানকে ধাওয়া করেন। তবে হামীমের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করলে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে পালানোর সময় রোহানকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
গণপিটুনির পর রোহান উদ্দিন স্থানীয়দের নিকট ছুরিকাঘাতের স্বীকারোক্তিতে দিয়ে একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, হামীমের সঙ্গে আমাদের এলাকার ছেলেদের সঙ্গে ঝামেলা থাকলেও আমার সঙ্গে কোন ঝামেলা নেই। আমি আমিরাবাদ যাওয়ার সময় আমাদের পাড়ার কয়েকজন ছেলে আমার সঙ্গে গাড়িতে উঠে। প্রতিমধ্যে তারা হামীমের সঙ্গে মারামারি দেয়। ওই সময় মধ্যস্থতা করে তাদেরকে শান্ত করি। এরপর হামীমকে একটি কিরিচ নিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। সর্বশেষ কেরানীহাট সিটি সেন্টারে হামীম আমাকে হাতে লোহার স্টিক দিয়ে আঘাত করলে আমি রাগান্বিত হয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করেছি।
নিহতের মামা মো. মহিউদ্দিন বলেন, তাদের মধ্যে একটা বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। আমার ভাগিনা বিরোধটি মীমাংসার জন্য কেরানীহাট সিটি সেন্টারে গিয়েছিল। সেখানেই মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তাকে প্রবাসে পাঠানোর জন্য পাসপোর্ট তৈরি করা হয়েছিল। আমরা এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এলাকাবাসী জানায়, ছদাহা ইউনিয়নের আফজল নগর ও হাসমতের দোকান এলাকাটি মাদকের হটস্পটে পরিনত হয়েছে। মাদক বেচাকেনা বন্ধ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় মাদকের বিস্তার ও কিশোর গ্যাং এর সৃষ্টি হয়েছে। যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। ফলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ছদাহা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আয়ুব বলেন, আমাদের সামর্থ্যে মাদক বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রশাসনকে আরও আন্তরিক হতে হবে। প্রশাসন আমাদের সাহস দিলে জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা মাদক প্রতিরোধে এগিয়ে যাব। তাই মাদকের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, পূর্ব বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে বিরোধের মূল কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা এবং কারো ইন্ধন ছিল কি না সেটিও খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। এ ছাড়াও গ্রেপ্তার রোহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার মূল কারণ ও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলমান রয়েছে।