সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে কাজ করে যাওয়া সামাজিক সংগঠন সাতকানিয়া-লোহাগাড়া মানবিক ফাউন্ডেশন-এর আহ্বানে সাড়া দিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, সম্প্রতি এক অসহায় রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা ও আর্থিক সংকটের বিষয়টি জানতে পেরে মানবিক ফাউন্ডেশনের সদস্যরা দ্রুত উদ্যোগ নেন। রোগীর পরিবার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে অক্ষম হওয়ায় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করা হয়।
ফাউন্ডেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ডেলিভারি রোগীর যাবতীয় খরচ তারা বহনের পাশাপাশি পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রশাসন ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেন।
ফাউন্ডেশনের এক প্রতিনিধি জানান, গতকাল রাতে আমাদের কাছে খবর আসে লোহাগাড়া জেনারেল হাসপাতালে একটি মহিলার ডেলিবারি হওয়ার পর তার খোঁজ খবর নিতে শুরু থেকেই কেউ আসেনি৷ তার স্বামী কক্সবাজার চাকরি করে। পরে ফোনে কথা বল্লে তার স্বামী (স্ত্রীকে) বলে আমি আসবো এবং টাকা পাঠাচ্ছি। পরবর্তীতে এখনো পর্যন্ত তার কোন খোঁজখবর নেয়নি তার স্বামী৷ তার ভর্তি হওয়ার পর থেকে ডেলিভারি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার ৫০০ টাকা হাসপাতালের বিল আসে৷ এ বিষয়ে আমরা সরাসরি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডা. ইকবালের সঙ্গে কথা বললে তিনি লোহাগাড়া জেনারেল হাসপাতালের পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করলে বিল মওকুফ করে দেওয়া হয়। শেষে ওই নারীর হাতে নগদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করা হয়।
আরেক সদস্য জানায়, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মানবিক বিষয়গুলো তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখে থাকে এবং যেকোনো অসহায় রোগীর চিকিৎসা সহায়তায় তারা সবসময় আন্তরিক।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসাইন জানান, অসহায় রোগীটির খবর পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বিস্তারিত কথা বলি। লোহাগাড়ায় যেকোনো অসহায় রোগীর চিকিৎসা সহায়তায় তারা সবসময় আন্তরিক।পাশাপাশি তিনি সাতকানিয়া লোহাগাড়া মানবিক ফাউন্ডেশনের সকল সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন৷
স্থানীয় সচেতন মহল এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সামাজিক সংগঠন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করলে অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।