শিরোনামঃ

নোয়াজিষপুরের নাজমুলের আকাশছোঁয়া স্বপ্ন রাউজানের প্রত্যন্ত জনপদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগারে, গণিতের নতুন দিগন্তে যাত্রা

শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

স্বপ্ন যদি হয় বড়, আর সেই স্বপ্ন পূরণে থাকে অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম—তবে সাফল্যের দুয়ার একদিন খুলবেই। তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাউজানের নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের সন্তান নাজমুল কাদের চৌধুরী। গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই মেধাবী তরুণ এখন পা রাখতে যাচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম গবেষণার কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে।
গণিত বিষয়ে উচ্চতর গবেষণার জন্য নাজমুল কাদের চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়—অরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটি ও টুলেইন ইউনিভার্সিটি থেকে শিক্ষক সহকারী সুবিধাসহ সম্পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন। পরবর্তীতে গবেষণার সুযোগ, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করে তিনি টিউলেন ইউনিভার্সিটিকে বেছে নিয়েছেন। ২০২৬ সালের ফল সেমিস্টার থেকে শুরু হবে তাঁর পিএইচডি গবেষণার নতুন অধ্যায়।

ঐতিহ্যের শিকড়, সাফল্যের ডানা:

নাজমুল কাদের চৌধুরী রাউজানের নোয়াজিষপুরের আবুল হোসেন চৌধুরী বাড়ির সন্তান। তাঁর পিতা মোহাম্মদ মনজুরুল কাদের চৌধুরী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি পরিবারের সবার বড়।ঐতিহ্য ও সামাজিক দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ এই পরিবারের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। তাঁর দাদা আলহাজ্ব হাসমত আলী চৌধুরী এবং প্রপিতামহ মরহুম আহমদুর রহমান চৌধুরী অবিভক্ত চিকদাইর-নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর চাচা কাজী ফজলুল কাদের চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ১৫ নং নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের ম্যারেজ রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্বমানের গবেষণার পথে:

নাজমুলের শিক্ষাজীবনের শুরু নতুনহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং বিএএফ শাহীন কলেজ, চট্টগ্রাম থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হয়ে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল কম্পিউটেশনাল ফ্লুইড ডাইনামিক্স। 

গণিতের প্রয়োগে নতুন কিছু করার প্রত্যয়: 

নাজমুলের গবেষণার আগ্রহের ক্ষেত্র হলো প্রয়োগভিত্তিক গণিত, কম্পিউটারভিত্তিক গণিত, নিউমেরিক্যাল এনালাইসিস, সাইন্টিফিক কম্পিউটেশন, গাণিতিক মডেল তৈরি, ফ্লুইড ডাইনামিক্স ও হিট ট্রান্সফার।গণিতকে শুধু পাঠ্যবিষয় হিসেবে নয়, বরং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বাস্তব সমস্যার সমাধানের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে দেখেন তিনি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার মাধ্যমে প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখাই তাঁর লক্ষ্য।

শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় এগিয়ে চলা:
নাজমুলের স্নাতকোত্তর গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ও রাউজানের কৃতি সন্তান অধ্যাপক ড. জালাল আহমদ। গবেষণার প্রতিটি ধাপে তাঁর দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নাজমুল।এছাড়া বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক এবং রাউজানের আরেক কৃতি সন্তান ড. সৈয়দ এনায়েত করিম উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রস্তুতিতে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছেন।

প্রভাষক থেকে পিএইচডি গবেষক:
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি শিক্ষকতাকেও পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন নাজমুল। তিনি পোর্ট সিটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বিভাগে গণিতের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানের পাশাপাশি গবেষণার প্রতি তাঁর আগ্রহ তাঁকে নিয়ে গেছে আন্তর্জাতিক গবেষণার নতুন দিগন্তে।

নোয়াজিষপুরের গর্ব, তরুণদের অনুপ্রেরণা:
রাউজানের একটি গ্রাম থেকে উঠে এসে বিশ্বের অন্যতম গবেষণাকেন্দ্রিক দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া নাজমুল কাদের চৌধুরীর এই অর্জন শুধু তাঁর পরিবারের নয়, পুরো নোয়াজিশপুর ও রাউজানবাসীর গর্ব।তাঁর সাফল্য নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার গল্প—যেখানে রয়েছে স্বপ্ন, সংগ্রাম, পরিশ্রম এবং বিশ্বজয়ের প্রত্যয়। সঠিক লক্ষ্য ও অধ্যবসায় থাকলে রাউজানের মাটিতেও জন্ম নিতে পারে আন্তর্জাতিক মানের গবেষক—নাজমুল কাদের চৌধুরী তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL