ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন চট্টগ্রাম থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় কোনো ব্যাংক ঋণ বা আর্থিক দায়বদ্ধতা না থাকার তথ্যটি রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাধারণত অনেক প্রার্থীর হলফনামায় বিপুল অংকের ব্যাংক ঋণ বা খেলাপি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও সাকিলা ফারজানার চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর হলফনামা অনুযায়ী, দেশি বা বিদেশি কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক ঋণ নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একজন প্রার্থীর এই 'ঋণমুক্ত' স্থিতি তাঁর নৈতিক অবস্থানকে যেমন সুসংহত করেছে, তেমনি ভোটার ও সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
হলফনামার তথ্যানুযায়ী, পেশায় সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী স্বাবলম্বী এবং স্বচ্ছ আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাঁর অস্থাবর সম্পদ হলো তাঁর নামে প্রায় ৫৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, একটি দামী জিপ গাড়ি এবং ব্যাংক ও হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রয়েছে। আর স্থাবর সম্পদ হলো চট্টগ্রামে একটি নিজস্ব ফ্ল্যাট ও অকৃষি জমির মালিকানা রয়েছে তাঁর নামে। তিনি ওকালতি বা আইন পেশা থেকে প্রাপ্ত আয় এবং স্থাবর সম্পত্তি থেকে অর্জিত ভাড়াকেই আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি দাখিল করা হলফনামা উল্লেখ করেন, মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৮২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪ টাকা। তারমধ্যে, বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যার পুরোটাই আসে ওকালতি পেশা থেকে। তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৮৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি, ৫৫ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ও ব্যাংক জমা মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এছাড়া স্থাবর সম্পদ হিসেবে ৭০ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার নামে।
ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা চট্টগ্রামের হাটহাজারীর গণমানুষের নেতা বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীর্ষ প্রতীক নিয়ে চারবারের নির্বাচিত এমপি ও সাবেক হুইপ মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের সুযোগ্য উত্তরসূরি। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলন এবং বিগত বছরগুলোতে অসংখ্য নেতা-কর্মীকে আইনি সুরক্ষা প্রদানের মাধ্যমে তিনি দলে নিজস্ব ভিত্তি গড়ে তুলেছেন। রাজনৈতিক কারণে কারাবরণের অভিজ্ঞতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তাঁর জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চশিক্ষিত ও পেশাজীবী নারীদের সংসদে আসার ক্ষেত্রে সাকিলা ফারজানার এই স্বচ্ছ প্রোফাইল একটি মাইলফলক। কোনো প্রকার ঋণের বোঝা না থাকা একজন সংসদ সদস্যকে স্বাধীনভাবে জনস্বার্থে কাজ করতে এবং নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে সাহসী ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে।
হাটহাজারী ও চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, সংরক্ষিত আসনে সাকিলা ফারজানার এই অন্তর্ভুক্তি সংসদে দলের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং একটি পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ধারাকে অনুপ্রাণিত করবে।
হলফনামায় দেওয়া তথ্যাদি সম্পূর্ণ সঠিক ও স্বচ্ছ দাবি করে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা জানিয়েছেন, বিলাসবহুল গাড়িটি কোম্পানি থেকে ঋণের মাধ্যমে নেওয়া, যা কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে। একজন আইনজীবী হিসেবে সম্পদের বিবরণ যথাযথভাবে দাখিল এবং নিয়মিত কর পরিশোধের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি শপথ গ্রহণের আগে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার কথা জানান।