শিরোনামঃ

চবিতে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন সেন্টার পরিচালক হলেন ড. মোসলেম উদ্দিন মুন্না

ইলিয়াছ সুমন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এ দেশের প্রথম “Satellite Ocean Observation and Data Innovation Center” প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন মুন্না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে প্রস্তাবিত দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চীনের জাতীয় সমুদ্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান Second Institute of Oceanography (SIO)-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে “Satellite Ground Station for Marine Remote Sensing (SGSMRS)” প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে ওয়ার্কিং এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়।
২০২৫ সালের ২৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের নেতৃত্বে এবং চীনা প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বর্তমানে সার্ভার, অ্যান্টেনা, ল্যাব স্পেসসহ অধিকাংশ স্থাপনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৫৬৬তম সভায় প্রকল্পটিকে স্বতন্ত্র কেন্দ্র হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় এবং “Satellite Ocean Observation and Data Innovation Center, University of Chittagong” নামে নামকরণ করা হয়। একই সভায় প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা ও সমন্বয়ক ড. মোসলেম উদ্দিনকে কেন্দ্রটির পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
কেন্দ্রের পরিচালক ড. মোসলেম উদ্দিন জানান, বর্তমানে টার্গেটকৃত স্যাটেলাইট থেকে ডাটা ডাউনলোড, প্রসেসিং প্রোগ্রামিং ও অ্যালগরিদম উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মে মাসের মধ্যে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে জুনের প্রথম সপ্তাহে কেন্দ্রটির চূড়ান্ত অপারেশন উদ্বোধন করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কেন্দ্র চালু হলে সমুদ্রসম্পদ আহরণ, জলবায়ু পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ঘূর্ণিঝড় ও সুনামি পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি বিগ ডাটা প্রসেসিং, মৎস্য খাত উন্নয়ন, ব্লু ইকোনমি ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গত ১৭ এপ্রিল সকাল ১০টায় কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। এ সময় তিনি কেন্দ্রটির সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় অর্জন। কেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হলে দেশ এর সুফল ভোগ করবে এবং সমুদ্র গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL