মাছের প্রজনন, বংশবৃদ্ধি এবং অবমুক্ত পোনার স্বাভাবিক বিস্তার নিশ্চিত করতে আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের মাছ শিকার বন্ধ হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
এর আগে, গত সোমবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বৈঠকে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, আহরণ ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম জানান, আজ ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে হ্রদে মাছ শিকার বন্ধ হবে এবং ২৫ এপ্রিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিএফডিসি ঘাটে মৎস্য অবতরণ করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২ মে থেকে কাপ্তাই হ্রদে পোনা ছাড়া শুরু হবে। বন্ধকালীন সময়ে কেউ যাতে অবৈধভাবে মাছ শিকার ও পরিবহন করতে না পারে, সে জন্য অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর সহায়তায় মানবিক কর্মসূচি চালু করেছে। এর আওতায় রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল মোট ২৬ হাজার ৮৪৫টি জেলে পরিবারকে দুই মাসে প্রতি পরিবারে ৪০ কেজি করে মোট ১ হাজার ৭৩.৮০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে।
সেই সঙ্গে খাদ্য সহায়তা পরিবহনের জন্য প্রতি পরিবারে ৩৫০ টাকা হারে মোট ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার ৩০০ টাকা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবিকায় সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।