শিরোনামঃ

রাঙামাটির রূপনগর এলাকায় বাসিন্দাদের পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ প্রচেষ্টার প্রতিবাদ

রাঙামাটি প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগ্রহীত
ছবি: সংগ্রহীত

রাঙামাটির শহরের  রূপনগর এলাকায় বাসিন্দাদের  পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ প্রচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল)  সকালে রূপনগর এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বলেন, পাহাড়ি জনপদে আমরা যারা বছরের পর বছর ধরে বসবাস করছি, আজ আমরা এক চরম অনিশ্চয়তা ও অস্তিত্বের সংকটে পড়েছি। শহরের রূপনগর এলাকায় শত শত পরিবার দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছে। এই জনপদটি শুধু আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং আমাদের পূর্বপুরুষের স্মৃতি এবং আমাদের জীবন-জীবিকার প্রধান কেন্দ্র। অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, সম্প্রতি কোনো প্রকার কার্যকর পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়াই আমাদের এই ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের এক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হলে শত শত শিশু, বৃদ্ধ এবং নারী খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হবে। এটি একটি অমানবিক পদক্ষেপ।

বক্তারা আরও বলেন, উচ্ছেদের কারণে এলাকার স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন এবং শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান চরম হুমকির মুখে পড়বে। যথাযথ পুনর্বাসন ছাড়া নাগরিককে তার আবাসস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া বাংলাদেশের সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। স্থায়ী সমাধান ছাড়া নতুন ভবন না করার অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।

ভোক্তভোগীরা বলেন, আমরা উন্নয়নের বিপক্ষে নই, তবে উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এই সংকট নিরসনে আমরা প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি হলো- '​অবিলম্বে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার উচ্ছেদ চালানো যাবে না। যদি এলাকাটি জনস্বার্থে প্রয়োজন হয়, তবে প্রতিটি পরিবারকে আগে সম্মানজনক স্থানে পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যারা দীর্ঘ সময় ধরে এখানে বসবাস করছি, আমাদের এই ভূমির স্থায়ী লিজ বা আইনি বন্দোবস্ত প্রদান করে স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সাথে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।

এসময় রূপনগর স্থানীয়  বাসিন্দা হাবিবুর রহমান হবি,আব্দুল হালিম, মো. তাজুল ইসলাম তাজ ও আলমগীর হোসেন, রওশন আরা বেগম, মো. সুজনসহ এলাকার স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL