শিরোনামঃ

বাপের বাড়ির কবরস্থানে দাফন হয়নি মেয়ের লাশ, সমাজের বাঁধা

আনোয়ারা প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগ্রহীত
ছবি: সংগ্রহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারার বৈরাগ ইউনিয়নের ফকির খিল এলাকার সমাজের বাসিন্দা না হওয়ায় বাপের বাড়ির কবরস্থানে মেয়ের লাশ দাফনে বাঁধার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার বিকেলে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ফকির খিল এলাকায় মৃত ব্যক্তির লাশ নিজ গ্রামের কবরস্থানে দাফন করতে না দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আনার চেষ্টা করেন। 

স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দুল হকের কন্যা চমেক হাসপাতালে মারা যান। দুপুরে তাকে দাফনের জন্য পিতাদের সামাজিক  পুরনো কবরস্থানে কবর প্রস্তুত করা হয়। এসময় সমাজের সভাপতিসহ স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসীকে কবর খননে বাঁধা এবং লাশ দাফনে বাধা দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

মৃত হিজবুল্লাহ্ বাহারের ছোটভাই মো. মুজিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ১৯৯৬ সালে ফকির খিল বন্দর থানা এলাকার বাসিন্দা আবদুর রশিদের সঙ্গে বোনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১ ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। সেখানে নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় আমার পিতার পৈতিক জমিতে ঘর নির্মাণ এবং বসবাস করে আসছে। স্বামীর মৃত্যুরপর আমার বোন শহরে চলে যায় সন্তানদের নিয়ে। অসুস্থতার অবস্থায় রোববার সকাল দশটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুরপর আমরা আমাদের সমাজিক পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের জন্য কবর খনন শুরু করলে সমাজের সভাপতি জামশেদ উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন বাঁধা দেন এবং এখানে কবর দিতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের প্রভাব বিস্তারের ফলে অন্য কোনো উপায় না পেয়ে আমার চাচাতো ভাইয়ের জমিতে কবর খনন করি।

মৃত হিজবুল্লাহ্ বাহার ওই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দুল হকের কন্যা। পরে তাকে দাফনের জন্য পাশ্ববর্তী এলাকার কবরস্থানে কবর প্রস্তুত করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

জানতে চাইলে ফকিরখীল এয়ার আলী খান সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি জামশেদ উদ্দিন বলেন, আমাদের মহল্লায় সমাজের বহির্ভূত কাউকে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করার সুযোগ না থাকায় তাঁকে কবর না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাঁরা পরিস্থিতি ঘোলাটে করে ফেলে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL