আর্থিক লেনদেন ও পারিবারিক কলহের জেরে চিকিৎসক মেয়েকে সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বাবার হাতুড়িপেটায় হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির লংগদুতে এমন ঘটনা ঘটেছে। যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
লংগদু সরকারি মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ওসমান গণির বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার এ অভিযোগ করেছেন তার চিকিৎসক মেয়ে জান্নাতুল।
ডা. জান্নাত জানান, তার বাবা গত ২রা মে সন্ধ্যা ৭ টায় ব্যক্তিগত কাজের জন্য ২০ লাখ টাকা দিতে বলেন। যা আমার পক্ষে কখনই সম্ভব নয়। আমি এতো টাকা দেওয়ার মত সমর্থ্যবান হয়নি। যখন টাকা দিতে পারবোনা বলি, তখন তিনি আমার স্বর্ণ অলঙ্কার নেওয়ার জন্য জোর করেন। একপর্যায়ে আলমিরা ভাঙ্গার চেষ্টা করে, না পেরে হাতুড়ি দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে মাথা ও কপাল ফেটে যায়। আমাকে মেরে ফেলারও চেষ্টা করে৷ আমি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মা এসে বাবাকে সরিয়ে দেয়।
তিমি আরও বলেন, এর আগেও আমার সংসার ভাঙা, মানুষের কাছে মানসিক রোগী বলে আমাকে হেয় করা সহ নানাভাবে অত্যাচার করে আসছে। এসব ঘটনায় আমার মা একই কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রোকেয়া বেগম জড়িত। দুঃখজনক বিষয়, সর্বশেষ ডাক্তারি ফাইনাল পরীক্ষায় যেন অংশগ্রহণ করতে না পারি সে বিষয়েও তারা অনেক পায়তারা করেছিলেন। এছাড়া আমাকে চেম্বার করতে দিতেও বিভিন্নভাবে বাঁধার সৃষ্টি করেন। জান্নাতের দাবি তার বাবা নিজেই একজন মানসিক রোগী।
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি আরও বলেন, সেদিনের পর থেকে আমি বাসায় যেতে পারছি না। আইনী সহায়তার জন্য থানায় গেলে স্থানীয় জামায়াত নেতারা সমাধান করবে বলে এখনো পর্যন্ত কিছু করেনি।
তবে এসবকিছু অস্বীকার করে লংগদু সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ওসমান গণি বলেন, আমার মেয়ে আসলে পাগল, তার মাথায় সমস্যা। সে সবার সাথে এমন আচরণ করে। আপনি এসব বিষয় কান দিয়েন না। এগুলো সে মিথ্যা অভিযোগ করতেছে। মারধরের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা পারবারিক ও বাবা মেয়ের বিষয়।
লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকারিয়া জানান, ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছি। তবে ভিকটিমের পক্ষ হতে কোন অভিযোগ না পাওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভিকটিম যদি অভিযোগ দায়ের করে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।