চট্টগ্রাম মহানগরীর ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে এক বৃহৎ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। "মাদক প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হই"—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে। তাই মাদক ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ড বিএনপি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাজিমুর রহমান বলেন, "মাদক আজ সমাজের অন্যতম বড় অভিশাপ। এটি তরুণদের স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে, পরিবারকে ভেঙে দিচ্ছে এবং সামাজিক শান্তি বিনষ্ট করছে। মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং এবং অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস বা ছাড় দেওয়া যাবে না।"
তিনি বলেন, "তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। পরিবার, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাহাড়তলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুল আবছার বলেন, "মাদক নির্মূলে পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও মাদকসংক্রান্ত যেকোনো অপরাধ দমনে আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "শুধু মাদক বিক্রেতা বা বহনকারীদের নয়, এ অপরাধচক্রের নেপথ্যের মূলহোতাদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।"
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব হাজী আব্দুল গণি সর্দ্দার। তিনি তরুণদের সুস্থ ও নৈতিক জীবন গঠনে পরিবার ও সমাজের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম, ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক হাজী শফিউল্লাহ, ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আবছারুল ইসলাম, বিএনপি নেতা দিদার রহমান সুমন, ১২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী আব্দুল গনি, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুল হক মজু, বিএনপি নেতা দিদারুল আলম নেভী, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলমগীর, ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব নুর সেলিম বাঙালি, ১২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব ফখরুল হাসান চৌধুরী রাজুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল—মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন ব্যক্তি সবার সামনে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর কখনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকার অঙ্গীকার করেন। উপস্থিত জনতা তাদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সমাজের মূলধারায় ফিরে এসে সৎ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের আহ্বান জানান।
আয়োজকরা বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সরাইপাড়াসহ পুরো চট্টগ্রাম মহানগরকে মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।