চট্টগ্রাম আন্ডারওয়ার্ল্ডের পরিচালক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ এর সেকেন্ড ইন কমান্ড ডেবিট ইমন।যার প্রকৃত নাম মোবারক হোসেন ইমন।এই শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেবিট ইমনসহ পাঁচ সন্ত্রাসীকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গ্রেপ্তার সবাই শুটার বলে জানাগেছে।তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, এলজি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেন।।গ্রেপ্তার হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন।যার আতঙ্কে কাপে চট্টগ্রামের অনেক মানুষ। খুন চাঁদাবাজি মাদকসহ সকল অপরাধ কর্মকান্ড তার হাতের ময়লা।কোন মতে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড।তার ভয়ে কতো মানুষ নীরবে চাঁদা দিয়ে গেছেন কোন হদিস নেই।সর্বশেষ দুই কোটি টাকা এককালীন ও মাসে দশলাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় চট্টগ্রামে এক ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ঢুকে দিন–দুপুরে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে ডেবিট ইমন অনুসারীরা।এরপর থেকে মিডিয়ার একের পর এক প্রতিবেদন দেশজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়।
ডেবিট ইমনও কম শিয়ানা মাল না।একের পর এক তার লোকেশন পরিবর্তন করছেন। একাধিক ডিভাইস পরিবর্তন করছেন।দেশে বসে বিদেশের মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন।কোন মতে সে দেশে তার কোন প্রুভ পাওয়া যাচ্ছেনা।এর ভিতর সে তার চেহেরা ও পোশাকে পরিবর্তন এনে নিজে সাদামাটা মানুষে রুপ নেন।একের পর এক কৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন ডেবিট ইমন।তিনি একের পর এক তার গতিপথ পরিবর্তন করছেন।এদিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো:মাসুদ আলম তার সকল কৌশল গতিপথ যাদুর চশমা দিয়ে নীরবে দেখে যাচ্ছেন।সারাদেশে পুলিশ সুপার মো:মাসুদ আলম তাকে আটকানোর সকল ফাঁদ তৈরি করে রেখেছেন। ডেবিট ইমন জানতোনা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এর কাছে যাদুর চশমা আছে।মুলত যাদুর চশমা নিজেই এই পুলিশ সুপার মো:মাসুদ আলম।তাঁর কাছ থেকে কোন সন্ত্রাসী পালিয়ে থাকতে পারে ক্ষনিক।
অদ্য ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুলিশ সুপার মো:মাসুদ আলম বক্তব্য রাখেন।অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে বলেন,সন্ত্রাসী যে দল মতের হোক না কেন কোন ছাড় নেই।
চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চক্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা ডিবি পুলিশ উন্নত প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং পেশাদার কৌশলের সমন্বয়ে নিরবচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ নিবিড় তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে গত ২২ জুলাই তারিখে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ (৪৭)-কে গ্রেফতার করা হয়। বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে তাকে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুদ এবং সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন।
তদন্তে জানা যায়, ধামা ইলিয়াছ কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ২১টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ০৫টি হত্যা মামলা ছাড়াও অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।
রিমান্ডে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা ডিবি পুলিশ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানাধীন ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন-সহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে সিএমপি ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় খুন, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়র ৩ ঘটিকায় ফটিকছড়ি থানাধীন কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডস্থ পাইট্রাল টিলাপাড়ায় মৃত আবুল হোসেনের পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু কার্যক্রম প্রকিয়াধীণ।
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের উৎস, অপরাধচক্রের অর্থায়ন এবং তাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সন্ত্রাস, অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল। জনগণের জানমাল রক্ষা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের এ ধরনের গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য,ডেবিট ইমন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড। চট্টগ্রামে দুই বছর ধরে বেশি কিছু চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় আসে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন ডেবিট ইমন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ।বর্তমানে ডেবিট ইমন আটক ও সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে। বাইরে আছেন মোহাম্মদ রায়হান।তিনি এখন দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।