শিরোনামঃ

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেল সবজি ক্ষেত: ঋণের বোঝাই দিশাহারা কৃষক

দেলোয়ার হোসেন রশিদী
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যায় লোহাগাড়া উপজেলার নয় ইউনিয়নের অধিকাংশ  এলাকায় ফসলি ক্ষেত, আমনের বীজতলা, আউশ ধান, সবজি ক্ষেত ও পানের বরজ নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অতি বৃষ্টির ফলে আমনের বীজতলা ও পানের বরজসহ সবজি ক্ষেতের ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশী বলে জানিয়েছেন কৃষকরা । 

টানা ১০ দিনের প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলের পানি ফসলি জমিতে ঢুকে হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্ন বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। তাদের মধ্যে কৃষক জসিম একজন।

উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পদুয়ার মালি পাড়ায় ৩ ছেলে ২ মেয়ে নিয়ে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে কোন মত করে চলছিল তাদের সংসার। বিভিন্ন সমবায় সমিতি, এনজিও ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ৯ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে পরিবারের দুঃখ গোছানোর জন্য ৮০০ শতক ফসলি জমিতে লাউ, চিচিঙ্গা, তিত করলা,  বরবটি, পেপে, ঢেড়শ, কলা বাগান, চাল কুমড়া ও আউশ, আমন ধানে চাষ করেন তিনি। সম্প্রতি টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যায় তার চাষের ফসলি ক্ষেতের সবটুকু অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে বন্যা পরবর্তী বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক ও সংস্থারl ঋণের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তার জীবনে নেমে আসে চরম হতাশা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,   সম্প্রতি উপজেলার ৯৪০০ কৃষকের ১৫০ হেক্টর শষ্য ক্ষেত, ৫ হেক্টর পান ও ৩৬০ হেক্টর আউশ, আমনের বীজতলায় বন্যার পানি ঢুকে সর্ম্পূন ধ্বংস হয়ে যায়। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ১৪ লক্ষ ১০ হাজার ৫ শত টাকা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জসিম বলেন, পরিবারের সুখের আশায় প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে ১ লক্ষ, পদক্ষেপ থেকে ২ লক্ষ, মুসলিম এইড থেকে ৩ লক্ষ, ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩ ঋণ নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ এবং আউশ ও আমন ধানের বীজতলা করেছিলাম। কিন্তু বন্যার পানি ঢুকে ক্ষেতের সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। এক দিকে সাংসারিক খরচ অন্য দিকে ঋণ পরিশোধ এ দুটো সমস্যা কিভাবে সামলাবো তা ভেবে হতাশ হয়ে পড়ছি। এ মুহুর্তে সরকার আমাদের পাশে এসে না দাঁড়ায় তাহলে মরণ ছাড়া কোন পথ আছে বলে মনে হচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষক চাষী মিয়া জানান, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃষি পণ্য উৎপাদন করে জসিম। তার কৃষি কার্ড থাকলেও কোন ব্যাংক তাকে কোন ধরনের লোন দেয় না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বন্যার পানিতে ঢুবে তার সবজি ক্ষেতের সব কিছু ধ্বংস হয়ে গিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। তাই সরকারের উচিত এমন বিপদ মূহুর্তে তার পাশে এসে দাঁড়ানো।
 
স্থানীয় এলাকাবাসী নুরুল আজিম বলেন, এবারের বন্যায় জসিমের সবজি ক্ষেতের যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে ক্ষতি পুষিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে তার অনেক সময় লাগবে। একদিক ঋণগ্রস্ত অন্যদিকে বন্যায় সর্বশান্ত হয়ে গেছেন তিনি । বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক ও সংস্থায় প্রতি মাস ও সপ্তাহে তাকে কিস্তি আদায় করতে হয় । বন্যা পরবর্তী সে কিস্তির টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় লাঞ্ছনার  সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নিরুপনের কাজ চলছে। সরকারি কোন প্রকার সুযোগ সুবিধা আসলে প্রকৃত কৃষকদের নির্বাচন করে বিতরণ করা হবে। একই সাথে পরিবেশ  স্বাভাবিক অবস্থা হলে কৃষকেরা যাতে দ্রুত পুনরায় আবাদ শুরু করতে পারেন, সেজন্য তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL