খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার রশিকনগর দাখিল মাদ্রাসায় যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ও কাদায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাদ্রাসায় যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে ইট ও মাটির অংশ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্ষার পানিতে রাস্তার দুই পাশের মাটি সরে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তার অংশ ভেঙে গেছে। ফলে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। যানবাহন নিয়ে মাদ্রাসা পর্যন্ত যাতায়াতও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত রশিকনগর দাখিল মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১৭ জন। মাদ্রাসায় যাতায়াতের জন্য এটিই একমাত্র রাস্তা। পাশাপাশি স্থানীয় প্রায় ২০০ পরিবারও দৈনন্দিন চলাচলে রাস্তাটি ব্যবহার করে।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ফাতেমা বলেন, ভাঙা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। প্রায়ই হোঁচট খেতে হয়। বর্ষার সময় কাদা ও পানির কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
আরেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলেন, “বর্ষার সময় রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। পানি ও কাদার কারণে পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী জহির হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি ভাঙা। গাড়ি নিয়ে মাদ্রাসা পর্যন্ত আসা যায় না। নিচে গাড়ি রেখে প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে আসতে হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই কষ্ট করতে হচ্ছে।
মাদ্রাসার সুপার আজিজুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হয়েছে। তিনি রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, “রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। অনেক সময় পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যথা পায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।
দীঘিনালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজ ভূঁইয়া বলেন, “রাস্তাটি সত্যিই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, বর্ষা হলে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করা কঠিন হয়ে পড়ে। মাদ্রাসার পেছনে প্রায় ২০০ পরিবারের বসবাস। রাস্তাটি শুধু মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী নয়, স্থানীয়দেরও চলাচলের প্রধান পথ। দ্রুত এর সংস্কার প্রয়োজন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাস্তাটি এখনো পাকা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমাতে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।