খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবু নাসের বদনের মৃত্যু নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে তার পরিবার। পরিবারের দাবি, বিএনপির কোনো হামলা বা সম্পৃক্ততার কারণে নয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে বিষপান করে আবু নাসেরের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২৩আগস্ট) মেরুং এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে এসব দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আবু নাসেরের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে তার বোন, ভাতিজা ও ননদের জামাই তাকে মারধর করেন। বয়সে ছোট ও আত্মীয়-স্বজনের হাতে মারধরের অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি বিষপান করেন বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।
আবু নাসেরের স্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে তার ভাসুরের ছেলে, ভাসুর, , ভাতিজা ও ননদের জামাই মারধর করেন। এ ঘটনায় বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মেরুং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বলেন, আবু নাসের পারিবারিক ঝামেলা ও আত্মসম্মানের কারণে বিষপান করে মারা গেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপির নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
এর আগে ২২ আগস্ট বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের উপদপ্তর সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন শাহজাদার পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, ১৫ আগস্ট রাতে মেরুং ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা আবু নাসেরের বাড়িতে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালান। তাকে মারধর করে বিষপানে বাধ্য করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানায় যুবলীগ।
তবে পরিবারের সংবাদ সম্মেলনে যুবলীগের ওই বক্তব্যকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করে প্রত্যাখ্যান করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আবু নাসেরের মৃত্যুর সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবু নাসেরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যুবলীগ, তার পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে।