শিরোনামঃ

বাকলিয়া গুলিবিদ্ধ আদালতপাড়া হামলা শিকার সাংবাদিকরা

আলী আশরাফ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: আলী আশরাফ
ছবি: আলী আশরাফ

শত বাধা-বিপত্তি আর জীবনের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই সত্য অনুসন্ধান ও তথ্য তুলে ধরার নাম সাংবাদিকতা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ পেশা যেন ক্রমেই পরিণত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এক যুদ্ধক্ষেত্রে। চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার (২১ মে) পৃথক দুই ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার শিকার হয়েছেন একাধিক সাংবাদিক। এসব ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় দিনভর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অভিযুক্ত ধর্ষককে গণধোলাই দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার বাধা অতিক্রম করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
এ ঘটনায় ছোড়া সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে আহত হন দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিন-এর দুই সাংবাদিকসহ কয়েকজন স্থানীয় যুবক। দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ এমন হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে।
অপরদিকে একই দিনে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ ও লাইভ সম্প্রচার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন ‘চ্যানেল ওয়ান’-এর ব্যুরো প্রধান শাহনেওয়াজ রিটন এবং চিত্রসাংবাদিক ও টিসিজেএ’র স্থায়ী সদস্য অমিত দাশ।
অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের একাংশ তাদের ওপর চড়াও হয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে এক যৌথ বিবৃতিতে টিসিজেএ নেতারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এ ধরনের সহিংস আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতা, মুক্ত গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। একটি দায়িত্বশীল সংগঠনের নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের কাছ থেকে এমন অপেশাদার ও উগ্র আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন টিসিজেএ’র সভাপতি এনাম হায়দার, সহ-সভাপতি সঞ্জীব দে বাবু, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাসু দেব, অর্থ সম্পাদক পারভেজ রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নাজিস উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক সাইমুন আল মুরাদ এবং নির্বাহী সদস্য রবিউল হোসেন টিপু, জহিরুল ইসলাম ও মো. নাজিম উদ্দিন।
সাংবাদিকদের ভাষ্য, সমাজের অন্যায়ের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে বারবার হামলা, হুমকি ও নির্যাতনের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। অথচ গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সত্য প্রকাশের পথ আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL