বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে পাওনা টাকার জন্য কৌশলে চার মাসের শিশুকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ শিশুটির নাম মারুফা জান্নাত মাহি। সে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দক্ষিণ ছালামী পাড়ার মো. রশিদ উল্লাহ ও ইয়াছমিন আক্তার দম্পতির মেয়ে।
অপহরণের পাঁচদিনেও শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তদের মোবাইল নাম্বার ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ির থানার ওসি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অভিভাবকরা জানায়, গত ২১ আগস্ট নাইক্ষ্যংছড়িতে ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা ননদ খালেদা বেগমের বাড়িতে শিশু সন্তান নিয়ে বেড়াতে যান ইয়াছমিন আক্তার ও তার স্বামী। সেখানে মো. আলম ও তার স্ত্রী তৃষার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। পরদিন শনিবার (২২ আগস্ট) বিকাল ৫টার দিকে শফি উল্লাহর বসতঘরে থাকা অবস্থায় তৃষা শিশু মাহিকে কোলে নিয়ে পাশের ঘরে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার কথা বলে নিয়ে পালিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হয় পরিবারের সদস্যরা।
এ সময় তৃষাকে আর ঘরে পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, আলম ও তৃষা শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শফি উল্লাহ ও খালেদা বেগমের সঙ্গে আলম-তৃষা দম্পতির ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আর্থিক লেনদেন রয়েছে। এ লেনদেনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে যোগসাজশ থাকতে পারে এবং তাদের সহযোগিতায় শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় ২২ আগস্ট শিশুটির মা ইয়াছমিন আক্তার (২৮) বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন- নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের ইসলামপুর পুরাতন বাসস্টেশন এলাকার বাসিন্দার শফি উল্লাহ (৫০), তার শাশুড়ি খালেদা বেগম (৪০) এবং মো. আলম (৩০) ও তার স্ত্রী তৃষা (২৫)।
শিশুর মামা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার বোনের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ছিল অপহরণকারীদের। মঙ্গলবারও ফোনে বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, তারা টাকা দাবি করছে। টাকা দিলেই শিশুকে হস্তান্তর করার কথাও জানাচ্ছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশুকে উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ। শিশুটি চট্টগ্রামের কোথাও আছে এতটুকু জানতে পেরেছি। আর্থিক লেনদেন নিয়ে পরিবারের সদস্যরাই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। অপহরণকারীদের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের যোগাযোগও রয়েছে। তারপরও আমরা শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা চালাচ্ছি।