দেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালীর বদ্বীপ ধলঘাটার সন্ত্রাসী গড়ফাদার ও উপজেলা আ'লীগ নেতা
বাচ্ছু বাহিনীর অস্ত্রের কাছে জিম্মি সাধারণ মানুষ। তার ভয়ঙ্কর রূপের কথা কেউ প্রকাশ্যে না বললেও, তার কথা মনে করিয়ে শিশুদের ঘুম পাড়ায় স্থানীয়রা। নিরাপত্তাহীনতায় ভয়ে কেউ মুখ খোলেনা। তার বাহিনীর বেলায় পুলিশও নিরহ।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, ২৪ইং এ গণঅভ্যুত্থানে তথা জুলাই আন্দোলনে আ'লীগ সরকার দেশ ছেড়ে পাললেও বাচ্চু বাহিনীর প্রধান অবৈধ অস্ত্রধারী বাচ্চু দাপট খাটিয়ে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র দখলে নেয়। সেখানে অবস্থান করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে সর্বদা ভয়ভীতির মাধ্যমে জিম্মি করে রাখার অহরহ অভিযোগ সাধারণ মানুষের। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর বাচ্চু ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নৌকা মার্কায় চেয়ারম্যান হয়েছিলো। আ'লীগ সরকার পরিবর্তনের পর কয়লা বিদ্যুতের ২৩ কোটি টাকার দুর্নীতি, খুন ও অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলার চার্জসীট ভুক্ত আসামি হওয়ায় গাঁ ঢাকা দিয়ে আত্মগোপনে থাকে দূরদর্শ বাচ্চু চেয়ারম্যান।
কিন্তু ২০২৪ইং সনের ২৭ আগস্ট বিভিন্ন অনিয়ম, ২৩ কোটি টাকা দূর্ণীতি, খুন ও অবৈধ অস্ত্রের অভিযোগে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হয় ফ্যাসিবাদের দোসর বাচ্চু বাহিনীর প্রধান বাচ্চু। তার আটকের খবর স্থানীয়দের মাঝে মিষ্টি বিতরণসহ এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে আসে। এতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যক্রমে টানা অনুপস্থিত থাকায় জনসাধারণ প্রাপ্ত নাগরিক সেবা ব্যাহত হয়। তারই প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে চেয়ারম্যান পদ হতে অব্যাহতি দেন। এদিকে পদাধিকারবলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন প্যানেল চেয়ারম্যান ও এমইউপি আতাহার ইকবাল দাদুল। কিন্তু তা যেন তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো! এমন কি ফলশ্রুত ২০২৫ইং সালে ১৪ মে সন্ধ্যায় মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ এর ১২নং গেইট দিয়ে ধলঘাটা যাওয়ার পথে মুহুরীঘোনা এলাকায় বাচ্চু বাহিনীর অস্ত্রধারী লোকজনে হাতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাদুল পুলিশের উপস্থিতিতে নির্মম হা'মলার শিকারে গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওইসময় মাতারবাড়ী ক্যাম্পের পুলিশ ইনচার্জসহ সদস্যও আহত হয়েছিলো। খবর পেয়ে মহেশখালী থানার তৎকালীন ওসি মোহাম্মদ কাইছার হামিদসহ পুলিশ টিম তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেন।
সাম্প্রতিক আ'লীগ দোসর বাচ্ছু উচ্চ আদালত আইনী লড়াইয়ে চেয়ারম্যানী বহল রেখে পুনঃরায় আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাহিনী জড়ো করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মগ্ন। এমনকি গেল কয়দিন পূর্বে তার প্রতিষ্ঠিত বাচ্চু বাহিনীর প্রধান ও তার ভাই আনসার উল্লাহ প্রকাশ্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাদুলকে পদত্যাগ না করলে হত্যার হুমকি দেয়। যার অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিলো। পরক্ষণে চেয়ারম্যানে পদস্থ হয়ে এলাকায় আবারো প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন। গেল ৭মে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে দশটায় সশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অসহায় মানুষের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। ওইদিন বাচ্চু বাহিনীর ন্যাক্করজনক হামলায় প্রতিবন্ধি ইকবাল নামক ব্যক্তিসহ অনেকেই রক্তাক্ত হয়। রেহায় পায়নি শিশু, নারী এবং গ্রামপুলিশ। ওইসময় প্রতিবন্ধী ইকবালের দোকানে তাণ্ডব চালিয়ে ডাকাতি করার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় ২০৩৯(৩)/১ স্মারক মূলে ১২ মে ২০২৬ ইং সনে বাচ্চু বাহিনীর প্রধান আহছান উল্লাহ বাচ্চুকে প্রধান করে ১১জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
বাচ্চু বাহিনীর প্রধান বাচ্ছুর হত্যা, দূর্ণীতি ও জিআরসহ ১২টি মামলা রয়েছে। ডজন মামলা থেকেও আ'লীগের প্রভাব খাটিয়ে এভাবে দাবিয়ে বেড়ায় সচেতনমহল ও স্থানীয়দের মাঝে নানা কৌতুহল সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের ভাষ্য বিএনপি সরকারের আমলেও পলায়নকৃত আ'লীগের উপজেলা নেতা বাচ্ছু বাহিনীর এমন দাপট! যার দরূন যেকোন মুহুর্তে ধলঘাটাসহ আশপাশে এলাকায় খুনখারাবি, বিভিন্নভাবে হয়রানী এবং রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটার শঙ্কায় ভোগছেন এতদাঞ্চলের সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ। বেপরোয়া বাচ্চু বাহিনীর অবৈধ টাকার দেশীয় তৈরী অস্ত্রের কাছে স্থানীয়রা নিরহ ও অসহায়। ইত্যমধ্যে তার ষড়যন্ত্রে অনেকেই বিভিন্নভাবে হয়রানীর শিকার হয়েছে।
তারা বাচ্চু বাহিনী প্রধান বাচ্ছুসহ তার বাহিনীদের আটক এবং অবৈধ মজুতকৃত অস্ত্র উদ্ধার পূর্বক এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুস সোলতান জানান, আইনশৃঙ্খলা নষ্টকারী সেই যে হউক না কেন, অপরাধীকে আটক করতে পুলিশ সদস্যরা সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে।