চট্টগ্রাম মহানগর রাজনীতিতে বারবার তুমুল আলোচনায় থাকেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাইফ। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও মিছিলে তাঁর নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিয়ে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর নেতৃত্বে আয়োজিত মিছিলগুলোর আকার ও কর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি চট্টগ্রাম নগরে দৃশ্যমান দ্বিতীয়টি দেখা যায়নি।
সাম্প্রতিক তাঁর নেতৃত্বাধীন মিছিলে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা গেছে। অনুসারীদের দাবি, এটি কোনো একটি কর্মসূচিকে ঘিরে হঠাৎ তৈরি হওয়া জনসমাগম নয়; বরং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পর্ক, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে থাকার ফল।
সাইফের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে অনুসন্ধানে তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন রাজপথের বিভিন্ন কর্মসূচিতে একসঙ্গে থাকা অনেক নেতাকর্মীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগও রয়েছে। ফলে দলীয় কোনো কর্মসূচির ডাক এলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন।
সাইফকে ঘিরে কর্মীদের আলোচনায় আরেকটি বিষয় উঠে এসেছে—রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ব্যক্তিগত অর্থ ও শ্রম ব্যয়ের বিষয়টি।
ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের দাবি, নিজের উপার্জিত অর্থের একটি অংশ তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং অসচ্ছল নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় ব্যয় করে আসছেন। বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের যাতায়াত, খাবারসহ নানা প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেন বলেও দাবি তাঁদের।
একাধিক কর্মী বলেন, ‘নিজের জন্য সঞ্চয় করার চেয়ে সংগঠনের কর্মীদের পাশে থাকাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।
সাইফের অনুসারীদের মতে, রাজনৈতিক মামলা-মোকদ্দমা কিংবা ব্যক্তিগত ও আর্থিক সংকটে পড়া অনেক নেতাকর্মী তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। কর্মীদের সঙ্গে এই সরাসরি যোগাযোগই তাঁর সাংগঠনিক ভিত্তিকে শক্ত করেছে বলে মনে করেন তাঁরা।
রাজনীতিতে অনেক নেতার কাছে পৌঁছানো কঠিন হলেও সাইফ ভাইয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যায় বলে মন্তব্য করে রিফাত নাম ছাত্রদল নেতা।
তাঁর অনুসারীদের মতে, দীর্ঘদিনের এই যোগাযোগের ফলে কর্মীদের একটি অংশের মধ্যে সাইফের প্রতি ব্যক্তিগত আস্থা তৈরি হয়েছে। আর দলীয় কর্মসূচিতে বড় উপস্থিতির ক্ষেত্রে এই সম্পর্কই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সাইফের ঘনিষ্ঠরা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ত্যাগের কথাও তুলে ধরছেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে গিয়ে তিনি মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন এবং একপর্যায়ে একটি পা হারিয়েছেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁর অনুসারীদের কাছে তাঁকে আলাদা অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মনে করেন তাঁরা।
সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর নেতৃত্বে বড় মিছিলের উপস্থিতি সেই সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতার দৃশ্যমান প্রকাশ বলেও দাবি করছেন তাঁর অনুসারীরা।
নিজের জনপ্রিয়তা কিংবা মিছিলে কর্মীদের উপস্থিতিকে কীভাবে দেখছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন,
‘ভাই, রাজনীতি করি আমার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য। রাজনীতি করতে গিয়ে একটি পা হারালাম। মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। শুধু মানুষের সেবা করে বাকি জীবন পার করতে চাই।ব্যক্তিগত কোনো প্রত্যাশার জন্য নয়, মানুষের পাশে থাকার লক্ষ্যেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।