শিরোনামঃ

রামুতে বন বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ অতিষ্ঠ হাজার পরিবার, সংবাদকর্মীকেও মামলার হুমকি

রামু প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগ্রহীত
ছবি: সংগ্রহীত

কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে বাঁকখালী রেঞ্জের বাঁকখালী বন বিট কর্মকর্তা ও মৌলভীরকাটা বন বিটের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে খাস ও বন বিভাগের জমিতে বসবাসরত কয়েক হাজার পরিবার ক্ষোভ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের কথিত হেডম্যান শাহ আলমের মাধ্যমে হাজিরপাড়া, নতুন তিতারপাড়া, গোদাইয়াকাটা, দক্ষিণ মৌলভীরকাটা, মৌলভীরকাটা নদীর পশ্চিম তীর, জাদিমুড়া ও মনিরঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন ঘর নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে বন মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা মোস্তফিজুর রহমান এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের জমি দখল ও বিক্রির ক্ষেত্রেও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। নতুন তিতারপাড়ার মোহাম্মদ জামান ও নুরুল হাকিমসহ কয়েকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বন বিভাগের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষ নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে স্থানীয়রা জানান, কচ্ছপিয়ার মো. আলমের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা, প্রবাসী ফজল আলীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা, মুকবুল আহামেদের কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা, শাকের আলম ও বেলাল হোসেনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে এবং মোহাম্মদ ইলিয়াছ ও ইদ্রিসের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে দৈনিক দিনকাল পত্রিকার প্রতিনিধি মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কুকে বন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
অভিযুক্ত বিট কর্মকর্তা মোস্তফিজুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার না করে সংবাদকর্মীকে বন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

​সংবাদকর্মীকে হুমকি
​ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে দৈনিক দিনকাল পত্রিকার প্রতিনিধি ও সাংবাদিক মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কুকে উল্টো বন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বিট কর্মকর্তা মস্তফিজুর রহমান। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে জানা গেছে।

​ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা
​অত্র এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই বিট কর্মকর্তার অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সহযোগিতায় তিনি যে অরাজকতা সৃষ্টি করেছেন, তা বন্ধ করতে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL