কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের মধ্য তিতার পাড়াস্থ শ্রীশ্রী সার্বজনীন দূর্গা মন্দির দখলের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার ( ৯ জুলাই) এ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা কাজল দাশ সহ মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা এ অভিযোগ তুলে ধরেন স্খানীয় সাংবাদিকদের।
তারা বলেন,১৯৮০ সালে কাজল দাশের নেতৃত্বে সমাজের সবাই মিলে এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা হয় । যা স্খানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ সবাই জানেন। বিশেষ করে অত্র ওয়ার্ড়ের প্রবীণ মুরব্বি মেম্বার নুরুল আলম সিকাদার,রাধাকান্ত দাশ ও মন্দির কমিটির উপদেষ্টা বিধান দাশ এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন,এ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৮০ সালে কাজল দাশের নেতৃত্বে। যা প্রথমে মাটি দিয়ে করা হয়। তিনি শুরু আধা যুগ অত্র মন্দিরে সভাপতিও ছিলেন। পরে সে বিদেশ চলে যান। যাওয়ার সময় একটি কমিটি গঠন করে দেন তিনি । এই কমিটি চলে আরো দীর্ঘ দিন। কয়েক বছর আগে সমাজের কয়েকটি পরিবার এ মন্দির নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করলে অত্র ওয়ার্ড়ের মেম্বার শাকিল সিকদার ও সমাজ সেবক নাছির উদ্দিন সোহেল সিকদার উভয় পক্ষকে ডেকে বিরোধ মিমাংসা করে দেন। এবং নিয়মিত কমিটি করে দিতে উদ্যোগ নেন। এ বিরোধ মিমাংসার এ সভায় সর্বম্মতভাবে শাকিল সিকদার আহবায়ক করে ১৩ সদস্যের একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির আহবায়ক শাকিল সিকদার,সমাজ সেবক সোহেল সিকদার ও কাজল অত্র মন্দিরের জন্যে এ খন্ড (৫ শতক) জমি ক্রয় করে পরে মন্দিরকে রেজিষ্ট্রি করে দেন। অবশ্য এ জমি ক্রয় পাকাভবন করতে নাছির উদ্দিন সোহেল সিকদার ও শাকিল সিকদারই লক্ষ লক্ষ টাকা দান করেন । এখনও এ মন্দিরের বিপদকালে তারা নি:স্বার্থভাবে দান করে আসছেন।
মন্দির কমিটির সদস্যরা আরো বলেন,
তাদের এ সমাজের ৬৫ পরিবারের মধ্যে কয়েকজন উগ্রযুবক পরিবার ছাড়া সবাই মন্দিরের চলতি আহবায়ক কমিটিতে সন্তুষ্ট । কারণ তাদের হাত ধরেই এ মন্দির পাকা হয় এবং মন্দিরটি নিজস্ব জমিতে থাকার সুযোগ করে দেয় সিকদার পরিবরের ২ সদস্য।
তাদের অভিযোগ, বিতর্কিত সুধির দাশ
রাখাল দাশ স্বপন দাশ,প্রদীপ দাশ ও
সজিব দাশরা জনৈক কার্তিক চন্দ্র দাশের ওয়ারিশ থেকে মাত্র সাড়ে ৮ কড়া জমি ক্রয় করার নামে ভূয়া দলীল সৃজন করে অত্র মন্দির তাদের নিজেদের দাবী করে বসে। অথচ এ জমি তারা অন্যত্র ভোগদখলে আছে। আর তা-ও কাজল দাশদের জমি দান করার অনেক পরে এ ভূঁয়া দলিলটি সৃজন করে সুধির দাশরা।
মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজল দাশ জানান,সম্প্রতি সেই উগ্র যুবকরা এ মন্দিরের কতৃত্ব নিতে।রাতের অন্ধকারে মন্দিরে ফ্রন্ট অংশের মূল ভবণে নিজেদের প্রদীপ দাশ সভাপতি,বিশ্বজিৎ দাশ সাধারণ সম্পাদক ও মদন দাশ অর্থ সম্পাদক লিখে দেন। যাকে নিয়ে পুরো দাশ পাড়ায় কৌতুহল ও সমালোচনা ঝড় বইছে।
তার মতে, বাংলাদেশে এই প্রথম এভাবে মন্দিরের গায়ে সভাপতি,সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদক লিখে মন্দির দখলের অভিযোগ জাতি জানলো। এছাড়া তারা গোপনে এ মন্দির দখলে নিতে একপেশে দুর্গাপুজাসহ অন্যান্য কিছু গোপন পরিকল্পনা প্রকাশ পায়। যা বাস্তবায়ন করতে গেলে দু'পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আশংকা করছেন তারা।
অভিযুক্তরা গোপনে গঠিত কথিত কমিটির সাধারণ সস্পাদক বিশ্বজিৎ দাশ কে এই অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,কাজল দাশের করা অভিযোগ সঠিক নায়। তাদের কমিটিই বৈধ। কাজল দাশদের আহবায়ক কমিটি অবৈধ।