বিদেশে চাকরির নামে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার জালিয়াতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সচেতনতা মুলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২আগষ্ট) ব্র্যাক আয়োজিত সভায় এ ধরনের প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত থাকতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের উপর আলোকপাত করেন বক্তারা।
বিশ্বব্যাপী সাইবার ক্যাম্পে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের বন্দি রেখে অনলাইন প্রতারণায় বাধ্য করা গুরুতর এক অপরাধ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে এবছরের বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য “প্রতারণার ফাঁদে বন্দী।”
এই স্লোগানকে সামনে রেখে আজ কক্সবাজারের রামু কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের আওতাধীন “ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্র্যাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং” এবং “কমব্যাটিং হিউম্যান ট্র্যাফিকিং, পিপল স্মাগলিং অ্যান্ড সাইবার স্ক্যাম- ফোর পি ফ্রেমওয়ার্ক” প্রকল্পের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান, সাইবার প্রতারণা এবং নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব উম্মে সুরাইয়া আমিন, উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, কক্সবাজার। তিনি বলেন, "মানব পাচার একটি সংগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ, যা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বরং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।"
তিনি নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিদেশে গিয়ে যে শ্রম ও দক্ষতা কাজে লাগাই, সেই দক্ষতা দেশের উন্নয়নেও সমানভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। তবে যারা বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাবেন, তাদের অবশ্যই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে বিদেশে যেতে হবে। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যেমন ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, তেমনি মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান ও প্রতারণার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।”
সরকারের পাশাপাশি ব্র্যাকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দক্ষ জনশক্তিই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নিরাপদ অভিবাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি উল্লেখ করে এর উপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দালাল ও প্রতারক চক্রের মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে অনিয়মিত পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করলে মানুষ মানব পাচার, শোষণ, নির্যাতন, আর্থিক ক্ষতি এবং জীবনহানির মতো গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে সরকারি অনুমোদিত মাধ্যমে তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিদেশে চাকরির নামে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার জালিয়াতি থেকে সুরক্ষিত থাকতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
আলোচনা সভার শেষে মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান ও সাইবার প্রতারণা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডেপুটি ম্যানেজার, রামু কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা, ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কক্সবাজার সেন্টারের কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানটি সফলভাবে বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কক্সবাজার সেন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং রামু কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র-এর কর্তৃপক্ষ।