শিরোনামঃ

ক্যম্বুওয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান,নতুন ভবন ও কার্পেটিং রাস্তা দাবি।

অংবাচিং মারমা
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: অংবাচিং মারমা
ছবি: অংবাচিং মারমা

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত ক্যম্বুওয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকট দূর করতে স্থানীয় বাসিন্দা,অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (৯ জুন) সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণ করছে। 

রুমা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বিদ্যালয়টি রুমা বাজার থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। বিদ্যালয়টি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৭ সালে জাতীয়করণ করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে,বর্তমানে এখানে ৩৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। পাঠদানের জন্য রয়েছেন ৫ জন শিক্ষক,যার মধ্যে ২ জন পিটিআই প্রশিক্ষণের চলমান রয়েছে ।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিলিওয়ং মারমা বলেন, “আমাদের স্কুলে নিয়মিত ক্লাস হয়। আমরা সবাই আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনা করি। তবে স্কুল ভবনটি ছোট হওয়ায় অনেক সময় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নতুন ও বড় ভবন নির্মাণ করা হলে আমরা আরও উৎসাহ নিয়ে পড়াশোনা করতে পারব।

শিক্ষক মালসংপার বলেন,আমাদের ক্যম্বুওয়া পাড়া বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান অবকাঠামো শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং পাড়াবাসীর সুবিধার্থে বিদ্যালয়গামী সড়কটি কার্পেটিং করা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং সবার চলাচল অনেক সহজ ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।”


স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য শৈহ্লাপ্রু মারমা বলেন, “ক্যম্বুওয়া পাড়ার সড়কটি এখনো উন্নয়নবঞ্চিত। রাস্তা কার্পেটিং করা হলে শিক্ষকদের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও জানান,ক্যম্বুওয়া পাড়া একটি সম্ভাবনাময় জনপদ। এই এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই ইতোমধ্যে উচ্চশিক্ষায় সাফল্যের নজির সৃষ্টি হয়েছে। কোয়ান্টাম স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী ও বুয়েটে অধ্যয়নরত শৈক্যচিং মারমার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্ম এই অঞ্চলে।

রুমা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশিষ চিরান জানান, “বিদ্যালয়ের জন্য পাহাড়ি এলাকার উপযোগী বিশেষ নকশার একটি ভবন নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আগামী অর্থবছরে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।

রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা বলেন,“ক্যম্বুওয়া পাড়া অত্যন্ত সুন্দর ও শান্ত পরিবেশে অবস্থিত। বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চলতে দেখে ভালো লেগেছে। তবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ এবং সড়ক উন্নয়ন করা প্রয়োজন। এতে এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন হবে।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। এতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পাবে এবং এলাকার শিক্ষা বিস্তারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL