চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত দিনে আধুনগর ইউনিয়নে পণ্য বিতরণের ঘোষণা দেওয়া হলেও সেখানে পণ্য বিতরণ না করে চুনতি ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে। এতে আধুনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের শত শত উপকারভোগী খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ জুলাই) আধুনগর ইউনিয়নে টিসিবির পণ্য বিতরণের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণার ভিত্তিতে বিভিন্ন গ্রামের নারী-পুরুষ নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হলেও পণ্য না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান। পরে তারা জানতে পারেন, ওই দিনের পণ্য চুনতি ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আধুনগর ইউনিয়নের চকিদার রুবেল ও দফাদার মো. আফসার জানান, ঘোষণার পর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ টিসিবির পণ্য নিতে এলেও তাদের কাউকেই পণ্য দেওয়া হয়নি।
টিসিবির সুবিধাভোগী ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, বর্তমান ডিলারের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তারা এই ডিলারকে আর চান না এবং অতিসত্বর বর্তমান ডিলারকে পরিবর্তন করে স্বচ্ছ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন ডিলার নিয়োগের দাবি জানান।
ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, টিসিবির পণ্য নিতে এসে প্রত্যেকের যাতায়াত বাবদ প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যেতে হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের দাবি, এই ক্ষতির দায় সংশ্লিষ্ট ডিলারকেই বহন করতে হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, টিসিবির পণ্য বিতরণে নিয়ম-নীতির যথাযথ অনুসরণ করা হচ্ছে না এবং সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বর্তমান টিসিবি ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করে যোগ্য ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে টিসিবি ডিলার আবদুল কাইয়ুমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদ বিন আখন্দের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় উপকারভোগীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, যাতে ভবিষ্যতে টিসিবির পণ্য প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত হয়।