শিরোনামঃ

সরকারি আগরবাগান দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বাধা দেওয়ায় আটক দুই

মো: আরিফুল ইসলাম বিজয়
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: মো: আরিফুল ইসলাম বিজয়
ছবি: মো: আরিফুল ইসলাম বিজয়

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন পদুয়া রেঞ্জের বড়দুয়ারা বিট কাম চেক স্টেশনের হলুদিয়া বাজার সংলগ্ন আগরবাগান দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বন বিভাগ।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হলুদিয়ায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে বাধা দেওয়ায় আব্দুল হামিদ ও মোহাম্মদ জহির নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তারমধ্যে হামিদের নামে বন সংক্রান্ত অপরাধের দায়ে সর্বমোট চারটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানকালে পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়াসহ বন বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, বনরক্ষী, ভিলিজার, উপকারভোগী ও আগর বাগানের একাধিক অংশীদার উপস্থিত ছিলেন।

বন বিভাগের সূত্রে জানা যায়, আটক আব্দুল হামিদ হলুদিয়া বাজার সংলগ্ন আগরবাগান দখল করে বসতঘর ও মুরগির খামার নির্মাণের পাশাপাশি কলা চাষ করেছেন। তিনি কলা চাষের পরিধি বিস্তৃতির লক্ষ্যে গত (২৪ এপ্রিল) রাতের আঁধারে ৩০টি আগর গাছ কেটে ফেলেন। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগ গাছগুলো জব্দ করে হামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও তার বিরুদ্ধে ওই বাগান থেকে আগর গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছিল।

তারই প্রেক্ষিতে, আগারবাগান কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত অংশীদাররা হামিদের বিষয়ে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেন। বন বিভাগ অভিযোগটি আমলে নিয়ে হামিদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় হামিদ ও জাহির অভিযানে বাধা দিলে তাদেরকে আটক করা হয়। পরে এক্সক্যাভেটরের সাহায্যে অবৈধ স্থাপনগুলো উচ্ছেদ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়দুয়ারা বিট কাম চেক স্টেশন কর্মকর্তা মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, হামিদ নামে ওই ব্যক্তি বন বিভাগের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি আগরবাগান উজাড়ের মতো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। আমরা তার অবৈধ স্থাপন উচ্ছেদে গেলে তিনি ও জহির আমাদের বাধা প্রদান করেন। এ সময় আমরা তাদেরকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছি। তার বিরুদ্ধে আগের চারটিসহ সর্বমোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, বন সংক্রান্ত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদেরও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কোন ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী পুনরায় বনের জায়গা দখল এবং বন ধ্বংসের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL