উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্দ্বীপ উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে দ্বীপটি কার্যত মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুপ্তছড়া ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পণ্যবাহী শতাধিক ট্রাক, বাস, পিকআপ ও ব্যক্তিগত যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে আছে। একই চিত্র দেখা গেছে বাসবাড়িয়া ঘাটেও। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী যানবাহন সন্দ্বীপে প্রবেশ করতে পারেনি। এতে পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
অন্যদিকে নৌযান বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জরুরি কাজে গন্তব্যে যেতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন।
শরীফ ফার্মাসিউটিক্যালসের সন্দ্বীপ এরিয়া ম্যানেজার প্রদীপ কুমার জানান, “বুধবার সকাল ৮টায় চট্টগ্রামের হোটেল টাওয়ার ইনে আমাদের কোম্পানির মাসিক সভা রয়েছে। কিন্তু নৌযান বন্ধ থাকায় সেখানে উপস্থিত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছি। সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে চাকরি হারানোর শঙ্কা রয়েছে।”
স্থানীয়রা দ্রুত নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।