শিরোনামঃ

সীতাকুন্ডে সর্বত্র টুংটাং শব্দ বাজছে

নাছির উদ্দীন শিবলু
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: নাছির উদ্দীন শীবলু
ছবি: নাছির উদ্দীন শীবলু

‘দক্ষ পিতার যোগ্য সন্তানরা পৈত্রিক পেশা আগলে ধরেছে। পূর্ব পুরুষের কর্মের উপর সুখের সংসার বুনছে তিন ভাই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এক পেশাতে সংসার জীবন পার করছে। প্রসিদ্ধ কামার বাবুল দাশের মৃত্যুর পর পৈত্রিক পেশায় নিয়োজিত নয়ন, সুজন ও জীবন। পিতার ঐতিহ্য ধারন করে কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। পুরো বছর যেনতেনভাবে পার করলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে কর্মব্যস্ত হয়ে উঠে। ঈদুল আযহার চাঁদের দেখা মিলতে সংসারের কাজে ব্যবহৃত পশু কাটার ধারালো সরঞ্জাম সান দিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। প্রতিদিন ৩০-৪০ জন ক্রেতার দা, বটি, ধামা, ছুরা সহ মাংস কাটার নানা ধরনের ধাঁরালো সরঞ্জাম সান দিচ্ছে। চুলায় কয়লার আগুনে লাল লোহার ধাতব অস্্র হাতুড়ি পিটিয়ে পানিতে ঠান্ডা করার পর সান দেয়। আগুনের গরম ছ্যাকার আর্শিবাদে সংসারের অভাব মুছায় আনন্দে চোখ-মুখ ঝলঝল করে উঠে। বাড়তি আয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে রাত-দিন কর্মজজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যস্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্রাম ও খাওয়ার পুসরত নেই বলে জানান কামার নয়ন দাশ।
কোরবানির ঈদকে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের নিশ্বাস ফেলার সময় নেই। যত ক্রেতা তত আয়। মুসলমান ভাইদের সেবা দিতে পেরে আনন্দ লাগে। তবে সবাই একসাথে ভীড় করায় কাজের চাপ বেড়ে যায়। প্রায় ৫০ রকমের গোশত কাটার সরঞ্জাম রয়েছে। ক্রেতার সরঞ্জামে সান দেয়ার পাশাপাশী গোশত কাটার নতুন নতুন যন্ত্রপাতির পসরা সাজিয়ে রাখা হয়। এসব সরঞ্জাম তৈরীতের টুংটাং শব্দে কামার পাড়ায় উল্লাস চলে। দা, ছোরা, বটি, ধামাসহ কৃষি সরঞ্জামে সানের আয়ে পুরো বছর সংসারে বরন-পোষন অর্থ জমা করতে হবে। এছাড়া আয়ের কিছু অংশ দিয়ে নতুন পোশাক-আশাক ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কিনতে হয়।
তিনি আরো বলেন,‘ দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পন্য বিক্রয় ও সানমূল্যে আয় বাড়ানো দুসাধ্য। খরচ পুষাতে সরঞ্জাম মূল্য ২শ-২ হাজার বিক্রি করতে হচ্ছে। সান দেয়া সরঞ্জাম মূল্য ১শ- ২শ টাকা নিলেও মান ভাল রাখার চেষ্টা করে সুনাম ধরে রাখতে চাই।
পশু জবাই দেয়ার আগে সরঞ্জাম হাতে পেতে সেবা গ্রহিতারা দৌঁড়াচ্ছে উপজেলা প্রতিটি বাজারের কামারদের দোকানে। সেবা গ্রহিতাদের ভীড়ে রীতিমত সমাবেশে পরিনত হয়ে উঠেছে কামারের দোকান। দর-দাম করার চেয়ে যথা সময়ে পন্য হাতে পাওয়াকে প্রাধান্য দিচ্ছে সেবা গ্রহিতারা। সেবা গ্রহিতা মো. শিপন বলেন,‘ বাজারের প্রতিটি কামারের দোকান লোকেলোকারন্য হয়ে উঠেছে। সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়। দিনভর অপেক্ষার পর গোশত কাটার সরঞ্জাম সান দেয়ার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL