শিরোনামঃ

ধংসের কবলে বনাঞ্চল সীতাকুন্ডে অবৈধ করাতকলে অবৈধ কাঠ কর্তন 

নাছির উদ্দীন শিবলু
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম সীতাকুন্ডে অবৈধ করাতকল অবৈধ পন্থায় হরদম কাটছে নিষিদ্ধ কাঠ। আইনের বিধান অমান্য করে কাঠ কাটায় বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়েছে বনায়ন। এতে সামাজিক ও সংরক্ষিত বনায়ন বিলিন হতে চলায় জীব বৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে। বনবিভাগের উদাসীনতায় অবৈধ কলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না থাকায় অস্তিত্ব হারাচ্ছে বনাঞ্চল।
বারৈয়ারঢালা ও কুমিরা রেঞ্জের অধীনে কয়েক হাজার হেক্টর পাহাড়ী ভূমির উপর সামাজিক ও সংরক্ষিত বনায়ন রয়েছে। পাহাড়ি বেষ্টিত বনে দেশী-বিদেশী ও ঔষুধী গাছের চারায় বনাঞ্চল গড়ে উঠে। বন রক্ষানে বেক্ষনে লোকবলসহ সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়। কিন্তু বনায়ন রক্ষায় সকল আয়োজন থাকলেও অবৈধভাবে গড়ে উঠা করাতকল নিয়ে আইন পদক্ষেপ নেই। আইনের বিধি বিধান কার্যকরে পদক্ষেপ গ্রহন না থাকায় করাতকল কেটে চলছে বনের নিষিদ্ধ কাঠ। তবে উচ্চ আদালতের বাঁধায় আইন প্রয়োগের সুযোগ নেই বলে জানান স্থানীয় করাতকল মালিকরা।

তারা বলেন,‘ বনবিভাগের অনুমোদনে করাতকলগুলো গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে ্আইনের বিধান দেখিয়ে কল সরানোর নির্দেশ দেয়। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে বনবিভাগের নির্দেশ আটকে দিয়ে কল পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে, উচ্চ আদালতের বিধি নিষেধের উপর ভিত্তি কওে চলা কলে নিষিদ্ধ কাঠ কাটা চলতে থাকায় বিলিন হতে চলেছে বনায়নের মূল্যবান বৃক্ষ। তারই অযুহাতে নিষিদ্ধ কাট কাটা বন্ধে আইন প্রয়োগে বনবিভাগের উদাসীনতায় পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র ধংসের কবলে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে জলাবায়ুতে চরম বিপর্যয় গড়ার আশংকা রয়েছে বলে জানান পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা।
গ্রীন এলায়েন্সের সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন,‘ সারা বিশ্বে জলাবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উষœ ও সুক্স অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টি, বন্য ও জলোচ্চাস হচ্ছে। সম্প্রতিক নেপালে পর্বত গলিত বন্যায় হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টির কারনে মৌসুমী বায়ুর দেশগুলোতে খাদ্যভাব দেখা দিচ্ছে। একদিকে বাতাসে কার্বনডাইক্সাইড বাড়ছে, অন্যদিকে বনায়ন বিলিন হতে চলেছে। বাসযোগ্য পৃথিবীর জন্য বনায়ন একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ। পাহাড়ি ও সমূদ্র উপকূলে বনায়ন রক্ষা করতে না পারায় নদী ভাঙনসহ জীব বৈচিত্র হুমকিতে পড়েছে। পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় মূল্যবান গাছ বাঁচিয়ে নতুন নতুন বনায়ন গড়তে হবে। আর বনায়ন রক্ষার জন্য করাতকলকে আইনের আওতায় আনা খুবই জরুরী। 
সূত্রমতে, বন আইন অনুসারে সংরক্ষিত বনের ৩ কিলোমিটারের ভেতর করাতকল স্থাপন সম্পূর্ন রপে নিষেধ রয়েছে। এরপরও পৌরসভাসহ উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় বনের কাছাকাছি স্থানে ৩০টি করাতকল স্থাপিত হয়। আদালতের গোলক ধাঁধায় বিধি- বিধান আটকে যাওয়ায় আইনে বাঁধা নেই। এ সুবাদে আইন প্রয়োগের পরিবর্তে মালিকদের সাথে আতাঁত করে বনবিভাগ চলে। আর প্রতিমাসে নির্দিষ্ট অংকের মাসোয়ারা গুনছে করাকল মালিকরা। তবে করাতকল মালিকদোর এমন অভিযোগ বনবিভাগ প্রত্যাখ্যান করলেও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয় না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আদালতের প্রতিবন্ধকতার কথা জানান বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের কর্মকর্তা মো.রাশেল।

এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মহসিন বলেন,‘ করাত কলের পূর্নাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হবে। করাতকলগুলো অনুমোদনের অবস্থা পর্যালোচনা করার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারব।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL