চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে প্রাকৃতিক ছড়া দখল করে অবৈধভাবে নির্মিত একটি গার্ডার কালভার্ট উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের তাৎক্ষণিক ও কঠোর নির্দেশনার পর এই অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় সুপরিচিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান 'জিমি বেকারি' কর্তৃক অবৈধভাবে এই কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মধ্যরাত পর্যন্ত উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ২নং গেইট সংলগ্ন জিমি বেকারির সামনে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
জানা গেছে, চবি ২নং গেইট এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ছড়া দখল করে অবৈধভাবে এই গার্ডার কালভার্টটি নির্মাণ করে জিমি বেকারি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি সরাসরি ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের দৃষ্টিগোচরে আসলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ছড়াটি দখলমুক্ত করার এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই উপজেলা প্রশাসনের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে।
অভিযানে অবৈধভাবে নির্মিত কালভার্টটির সিংহভাগ ও অংশবিশেষ ভেঙে ফেলা হয় এবং অবরুদ্ধ ছড়াটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাতের আঁধারে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ কার্যক্রমের পর কালভার্টের বাকি অংশ পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ ভেঙে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর ও চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রদান করেছে প্রশাসন।
এই উচ্ছেদ অভিযান এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, প্রাকৃতিক জলাধার, খাল বা ছড়া দখল করে জনদুর্ভোগ তৈরি করার অধিকার কারও নেই, সে কোনো ব্যক্তিস্বার্থেই হোক বা কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই হোক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার পরিবেশ রক্ষা, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অবলম্বন করেছে।
হাটহাজারীর এই ছড়াটি উদ্ধারের মাধ্যমে আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই যে, আইন অমান্যকারী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা চাই প্রতিটি ছড়া ও খাল তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাক, যেন বর্ষায় স্থানীয় জনগণকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ সইতে না হয়। জনস্বার্থে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের এই ধরনের পজিটিভ ও কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।