চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পুকুরের পানিতে ডুবে মো. আইয়ান নামে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুরে হাটহাজারী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দ্রপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আইয়ান ওই এলাকার প্রবাসী আজিজ উল্লাহ'র একমাত্র ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে ঘরের উঠানে একটি ক্যালকুলেটর নিয়ে খেলছিল শিশু আইয়ান। খেলার ছলে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে সে বাড়ির সামনের পুকুরপাড়ে চলে যায়। এ সময় হাত থেকে ক্যালকুলেটরটি পুকুরের পানিতে পড়ে গেলে সেটি তুলতে গিয়ে সেও পানিতে পড়ে যায়। সাঁতার না জানায় মুহূর্তেই পুকুরের গভীর পানিতে তলিয়ে যায় শিশুটি।
এদিকে ঘরের উঠানে আইয়ানকে না দেখে পরিবারের লোকজন চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরের পানিতে তাকে ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন নিহত আইয়ানের বাবার এক চাচা। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে প্রথমে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক আইয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের এই কথা প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিল না পরিবারটি। পরে সান্ত্বনার খোঁজে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহত আইয়ানের বাড়িতে আসেন উপজেলার ছিপাতলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নূরুল আহসান লাভু। নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এমন অবুঝ শিশুর অকাল মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। গ্রামীণ এলাকায় বসতবাড়ির একদম কাছাকাছি পুকুর থাকায় শিশুরা সবসময়ই ঝুঁকিতে থাকে। এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রতিটি পরিবারের সচেতন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে বাড়ির সামনের পুকুরপাড়ে শক্ত সুরক্ষাবেষ্টনী বা নেট দেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত, যেন শিশুরা অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে না যায়। সামান্য একটু সচেতনতাই পারে এমন বড় বড় দুর্ঘটনা থেকে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে প্রবাসীর পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। আজ বাদে আসর স্থানীয় একটি মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে শিশু আইয়ানের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। জানাজায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন।