আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভা এবং উপজেলার ১৮টি স্থানে বসছে স্থায়ী ও অস্থায়ী কোরবানির পশুরহাট। স্থানীয় গৃহপালিত পশুর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন আঁকারের গরু-মহিষ আনতে শুরু করেছে ব্যাপারীরা। স্থায়ীভাবে ইজারাকৃত ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী গরুর বাজার পুরোদমে জমে উঠতে শুরু করেছে। এই বাজারের আওতাধীন মীরেরহাট বাজারও পর্যায়ক্রমে জমে উঠবে। তবে মীরেরহাট বাজারে দেশী গরুর সয়লাব প্রতিবছর দেখা যায়। অন্যদিকে কোনরকম ইজারা ছাড়াই প্রতিবছর বসে আসছে উত্তর চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় কোরবানির পশুরহাট চৌধুরীহাট বাজার, সেখানে কোরবানির পশু কিনতে কোনরকম হাসিল দিতে হয় না। তাই বাজারটি খুব জনপ্রিয়। তবে ওই বাজারে তিলধারণের জায়গা না পেয়ে পশু নিয়ে মহাসড়কের দুইপাশ দখল করে ব্যাপারীরা। প্রশাসনের পক্ষথেকে তাদের সরানোর হাজার চেষ্টা কর হলেও কোন লাভ হয় না। ফলে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। ভোগান্তিতে পড়ে ঘরমুখো হাজার হাজার মানুষ। কারণ মহাসড়কটি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার সাথে সংযোগ রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে প্রথাগত হাটের পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং সরাসরি ডেইরি খামারগুলো থেকেও ক্রেতারা কোরবানিযোগ্য পশু সংগ্রহ করছেন। পাবনা থেকে আসা ব্যাপারীরা বলেন, এবার হাটে পশুর দাম একটু বেশি মনে হইলেও আমাদের আসলে করার কিছু নাই। বিগত এক-দেড় বছরে গমের ভুসি, খৈল, খড় আর সব ধরনের গোখাদ্যের দাম ডাবলের চেয়েও বেশি বাড়ছে। একটা গরুর পিছনে প্রতিদিন যে খরচ গেছে, সেই তুলনায় আমরা দাম পাচ্ছি না। এর ওপর আছে ট্রাক ভাড়া আর হাটের খরচ। ক্রেতারা তো শুধু গরুর সাইজ দেখে দাম করে, কিন্তু আমাদের খামারিদের বুকফাঁটা কষ্টটা দেখে না। লোকসান দিয়া তো আর পশু বিক্রি করা সম্ভব না, তাই কাস্টমারদের একটু বেশি দামেই কিনতে হবে। উপজেলা সূত্র জানাযায়, এইবার তারা ১৫টি কোরবানির পশুরহাট বসার ইজারা দিয়েছেন। এরমধ্যে উপজেলার ১ নং ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের নূর আলী মিয়ারহাট, হাজী জব্বার হাট, চৌমুহনী বাজার ও ছোট কাঞ্চনপুর বাজার। ২ নং ধলই ইউনিয়নে কাটিরহাট বাজার ও মাইজপাড়া গাউছিয়া ফো. মা.। ৩ নং মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকারহাট বাজার ও চারিয়া নয়ারহাট বাজার। ৪ নং গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের পেশকারহাট বাজার, গুমানমর্দ্দন জিলানী বাজার ও গুমানমর্দ্দন ধুরুমের মুখ বাজার। ৮ নং মেখল ইউনিয়নের ইছাপুর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বাজার। ১০ নং উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের সৈয়দ আহমদ হাট। ১৩ নং দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নের মদুনাঘাট বাজার এবং ১৫ নং বুড়িশ্চর ইউনিয়নের কুয়াইশ রাস্তার মাথা বাজার। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করার জন্য মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে এবং কোরবানির পশুরহাট গুলোতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা কিংবা অপ্রীতিকর কোন ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাছাড়া উপজেলা প্রশাসন পক্ষথেকে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। যানজট নিরসন ও জনদুর্ভোগ লাঘব করতে মহাসড়কে কোরবানির পশু উঠতে দেওয়া যাবে না। যদি কেউ তোলে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান। উপজেলা প্রাণিসম্প কর্মকর্তা ডা. নাবিল ফারাবী জানান, এবার ঈদ উপলক্ষে আমাদের তালিকাভুক্ত ৯২২টি খামারে ৫৪ হাজার ৭৫৬টি কোরবানির উপযুক্ত পশু মওজুদ রয়েছে। যা চাহিদা চেয়েও অনেক বেশি। সাধারণত হাটহাজারীতে চাহিদা থাকে ৫৩ হাজার ৯৯০টি পশুর। বিভিন্ন খামারে ষাঁড় গরু আছে ২৭ হাজার ৩৪২টি, বলদ গরু আছে ৫ হাজার ৪২৮টি, গাভী আছে ২ হাজার ৫৪৮টি। মহিষ আছে ২ হাজার ৬০০টি, ছাগল আছে ১৫ হাজার ৫৪৬টি, ভেড়া আছে ১২ হাজার। তাছাড়া এবার ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত ১৫ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ বাছুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) রোগে আক্রান্ত রয়েছে। তিনি আরো জানান, শুক্রবার হতে কোরবানি পশুরহাট গুলোতে ৫টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।