বাংলা নববর্ষ ও পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী বৈসাবি উৎসবের আবহে খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক প্রাণবন্ত বৈশাখী ক্রীড়া উৎসব। তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, ক্রীড়ার আনন্দ আর সম্প্রীতির বার্তায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
শুক্রবার বিকেলে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা মাঠে প্রজন্ম ক্লাবের উদ্যোগে এই বৈশাখী ক্রীড়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠজুড়ে জড়ো হয় নানা বয়সী মানুষ—কেউ অংশগ্রহণ করতে, কেউবা উৎসাহ দিতে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় এক প্রানবন্ত মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য মো. মাহবুব আলম। এছাড়াও প্রজন্ম ক্লাবের অন্যান্য সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ছিল নানা ধরনের গ্রামীণ ও আধুনিক খেলা, যা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে এনে দেয় বাড়তি উদ্দীপনা। দৌড়, দড়ি টানাটানি, বালিশ বদল, লুডু প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন আনন্দকর ইভেন্টে অংশ নিয়ে প্রতিযোগীরা আনন্দে মেতে ওঠেন। মাঠজুড়ে তখন হাসি, উল্লাস আর করতালির ঢেউ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মাহবুব আলম বলেন, “মাদককে বলি ‘না’, মাঠকে বলি ‘হ্যাঁ’। একটি সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গড়তে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। যুবসমাজ যখন খেলার মাঠে ব্যস্ত থাকে, তখন মাদক আর সন্ত্রাস সমাজ থেকে দূরে থাকে। আসুন, তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করি, সুন্দর আগামী গড়ি।”
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনই নয়, বরং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা অপরিহার্য, আর এ উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক।
আয়োজকরা জানান, বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষকে ঘিরে নতুন প্রজন্মের মাঝে আনন্দ, ঐক্য ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
দিনব্যাপী এ উৎসব শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আনন্দঘন এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি, আর দর্শকদের চোখে ছিল এক টুকরো উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। বৈসাবির উৎসবমুখর আবহে এমন ক্রীড়া আয়োজন খাগড়াছড়ির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।