চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পারকি সমুদ্র সৈকতে প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় দেখা গেলেও এবার ঈদুল আযহার ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রত্যাশিত পর্যটকদের সমাগম ঘটেনি।
ঈদের চতুর্থদিন রোববার পারকি সমুদ্র সৈকত, ফুলতলী রাজকুটির, মোহনা পার্ক, লুসাই পার্ক ও বেড়িবাঁধ ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। পর্যটকদের ভিড়ে মুখর থাকত এসব এলাকা, সেখানে এবার তেমন ভিড় চোখে পড়েনি। হোটেল মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর এইদিনে ঈদের ছুটিতে পর্যটকের মুখর থাকত পারকিসহ বিভিন্ন পর্যটক স্পটগুলো। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও প্রভাবিত হচ্ছেন।
পারকি সমুদ্র সৈকত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম বলেন, ভাঙনের কারণে পারকি সমুদ্র সৈকতে পর্যটক কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত। ঈদের ছুটিতে পারকিসহ মুখর থাকত বিভিন্ন পর্যটক স্পটগুলো। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদেরপরদিন থেকে পর্যটকের ভিড় ছিল। ব্যবসায়ীরাও ছিলেন খুশিতে। সৈকতে নিবন্ধনহীন স্পিড বোট, চরে বেপরোয়ারা গতিতে ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও ফটোগ্রাফারদের হয়রানির কারণে গত দুইদিন কমেছে পর্যটকের সংখ্যা। দ্রুত তাদের ব্যাপারে প্রশাসন ব্যবস্থা না দিলেও পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিবেন সৈকত থেকে।
সমুদ্র সৈকতের ঘুরতে আসা হালিশহর থেকে মোহাম্মদ আলমগীর ও সাবরিনা খানম দম্পতি জানান, টানেল পার হয়ে সৈকতে এসেছি। এখানে এসে পড়েছি বিপাকে। বাচ্চাকে নিয়ে পায়ে হেঁটেও যেতে পারছি না বেপরোয়ারা গতিতে ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের ভয়ে। ছবি তুলেও হয়েছি হয়রানির শিকার, এক ক্লিকে ৩০টা ছবি। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে নিতে হয়েছে এসব ছবি। সৈকতের এমন কা- যেন দেখার কেউ নাই। এই কারণে পর্যটক পারকি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে।
হোটেল মালিক কাজী জাফর আহমেদ বলেন, 'বছরের এ সময়টায় পর্যটকের চাপ সামলানোই কঠিন হয়; অথচ এবার ঈদে পর্যটকের তেমন চাপ নেই। নেই ব্যবসা বানিজ্যও।'
টুরিস্ট পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশের ৭ জন সদস্য কাজ করছে। গত ঈদের চেয়ে এবার পর্যটকদের তেমন চাপ নেই। আগত পর্যটকদের স্পিড বোট, চরে বেপরোয়ারা গতিতে ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও ফটোগ্রাফাদের হাতে যেন হয়রানি শিকার না হয় সেদিকেও কঠোর অবস্থানে টুরিস্ট পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।’
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পারকি সমুদ্র সৈকতসহ বিভিন্ন পর্যটক স্পটে আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশও কাজ করছে।’
পারকি সমুদ্র সৈকতে শতশত ঝাউগাছ বিলীন, ভাঙন ও সৌন্দর্য হারানোর কারণে এবার ঈদে পর্যটক কমেছে বলে ধারণা স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের। এতে করে ঈদের দ্বিতীয়দিন থেকে শুরু করে চতুর্থদিনেও পর্যটকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। তবে পারকি সমুদ্র সৈকত ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে আনোয়ারা উপকূলসহ ৫৪৮ কোটি টাকার ‘পারকি সি-বিচ সংরক্ষণ’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে সুরক্ষা পাবে পারকি সমুদ্র সৈকত, কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ক, স্থানীয় বসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, ’পারকি সি বিচ বাংলাদেশের একটি সম্ভবনাময় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু অব্যহত ভাঙন ও সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে সৈকতের সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। ইতিমধ্যে পারকি বিচ উন্নয়নে ’পারকি সি-বিচ সংরক্ষণ’ নামে একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে।'