শিরোনামঃ

রাউজানে যুবকের ছুরিকাঘাতে আহত ২, সড়কে নেমে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর

শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ
ছবি: শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে কথিত যুবদলকর্মী আমান উল্লাহর ছুরিকাঘাতে দুই যুবক আহত হয়েছেন। রবিবার (৩১ মে) সকাল ১১টার দিকে পশ্চিম ডাবুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষ সড়কে নেমে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে অভিযুক্তের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করে। বাড়ির সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। পরিবারের কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। 
ছুরিকাঘাতে আহতরা হলেন, ডাবুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাদা গাজীর বাড়ির নুরুল আবছারের ছেলে মো. হাসান (২০) ও একই এলাকর হাড়ি চান চৌধুরীর বাড়ির মরহুম কামালের ছেলে হাবিবুর রহমান সিফাত (২০)।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে আমান উল্লাহ নামের এক যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে সিফাত ও হাসানের ওপর হামলা চালান। এতে দুজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত আমান উল্লাহর বাড়িতে হামলা চালায় বলে জানা গেছে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। উত্তেজিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিনসহ যুবদল ও ছাত্রদলের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে রাউজান থানা পুলিশের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও আহতরা একই এলাকার বাসিন্দা। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি। আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ করেছি। একই সঙ্গে একটি আপস-মীমাংসার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি।
আহত মো. হাসান বলেন,সকালে আমি ও সিফাত বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আমান উল্লাহ আমাদের পথরোধ করে। পূর্ব বিরোধের জেরে সে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। আমরা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করি। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, আমান উল্লাহর কারণে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এ ঘটনার পর মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়ে গেছে।
অভিযুক্ত আমান উল্লাহর পিতা শাহা আলম বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে কী ঘটনা ঘটেছে আমি জানি না। যে কিরিচ দিয়ে হামলার কথা বলা হচ্ছে সেটি কোথায় আছে তাও আমার জানা নেই।অভিযুক্তের মা নুর নাহার বলেন, আমার ছেলের বিষয়ে কী ঘটেছে আমি জানি না। একদল লোক এসে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমি পায়ে ও হাতে লাঠির আঘাত পেয়েছি।
ঘটনাস্থলে আসা রাউজান থানা পুলিশের এস আই রাজান বলেন, কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতাকে সামাল দিতে পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযুক্তকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে আমরা আশ্বস্ত করেছি।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL