শিরোনামঃ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা সড়ক দখল করে দোকানপাট, অটোরিকশাস্ট্যান্ড

ইমরান হোসাইন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ব্যস্ততম আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনী বাজার ও কর্ণফুলী টানেল সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। গুরুত্বপূর্ণ বাজারজুড়ে তীব্র যানজট। অটোরিকশা, রিকশা আর নানা যানবাহনের কারণে রূপ নিয়েছে যানজটের শহর হিসেবে। বিভিন্ন যানবাহনে চলাতো দূরে থাক হেঁটে চলাচল করাও যেন দুষ্কর আর চরম ভোগান্তির। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলতে গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। একদিকে চাতরীর যানজট অন্যদিকে ফুটপাত ও নির্মিত সড়ক দখল করে বিভিন্ন ভাসমান দোকানপাটের কারণে নাকাল পথচারী ও সাধারণ মানুষ।

চাতরী চৌমুহনী বাজারে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকানপাট, ভাসমান ব্যবসা এবং অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরা। পায়ে হাঁটার জন্য নির্মিত ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে শিশু, শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে পথচারীরা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিন দেখা যায়, চাতরী চৌমুহনী বাজারের ওপর দিয়ে আনোয়ারা ছাড়াও চন্দনাইশ, বাঁশখালী ও কক্সবাজার জেলার পেকুয়া ও চকরিয়ার যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া কেইপিজেডের শ্রমিকদের আনা-নেওয়ার যানবাহনও চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে।

চাতরী ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশে, ওয়ান মাবিয়া শপিং কমপ্লেক্সের সামনে, সিইউএফএল সড়কের শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবটরী, বনফুল, শরীফ শপিং কমপ্লেক্সেসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের বড় অংশ দখল করে বসেছে ভাসমান দোকান। কোথাও ফলের দোকান, কোথাও চা-স্টল, আবার কোথাও পোশাক, জুতা, সাইনবোর্ড কিংবা সবজির অস্থায়ী দোকান। দোকানদারও তাদের পণ্য সাজিয়ে রেখেছেন। ফলে যানবাহন ও পথচারীদের জন্য ফুটপাত ও সড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, চাতরী চৌমুহনী বাজার থেকে মেরিন একাডেমি পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের জন্য কিছুদিন আগে সড়ক ও জনপদ বিভাগ অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করেছিল। তাদের সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষ হতেই দোকানিরাই তাদের দোকানপাট নিয়ে সড়কের উপর বসে পড়ে। যার কারণে প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হয়; তার ওপর চাতরী চৌমুহনী বাজারের নিয়মিত যানজটের কারণে সড়কে প্রতিদিনই অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। 

তাঁরা বলেন, চাতরী চৌমুহনী বাজারের ওপর অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশাস্ট্যান্ড হওয়ায় সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। আর এ কারণে চারপাশ থেকে আসা যানবাহন আটকে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. এরশাদ সিকদার বলেন, ‘অনেক দোকানিই তাদের কাঁচা বাজারের স্থায়ী দোকান রেখে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা বানিজ্য করছেন। এদিকে কাঁচা বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। এছাড়াও সড়কের এক অংশ দখলে রেখেছে অটোরিকশাস্ট্যান্ড। এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি আমরা ব্যবসায়ীরা।’

আরেক ব্যবসায়ী শাকিল আহমেদ বলেন, বেশিভাগ ক্রেতাই সড়কের উপরের দোকান থেকে বাজার সেরে চলে যান। ভেতরের কাঁচা বাজারে ভোগান্তি পেরিয়ে পরিচিত মানুষরাই আসেন। যতদিন এভাবে চলবে ততদিনই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়বে।

কেইপিজেডের নারী পোশাক শ্রমিক জেসমিন আকতার বলেন, গাড়ি থেকে নেমে আর বাজারে যেতে হয় না। বাজারই চলে এসেছে সড়কের দুইপাশে। যানজটের আটকার মধ্যেই গাড়িতে থেকে বাজার সেরে নিতে পারি। 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমাসের বেতনের টাকা তুলতে পায়ে হেঁটে বুথে যাওয়ার অবস্থাও এখন চাতরীতে নেই। দুমিনিটের পথ লেখেছে ২৫ মিনিট। পুরো রাস্তা, আর ফুটপাত দোকান আর দোকান। এসব যেন কারও চোখে পড়ে না।

মোহাম্মদ আমিনুল হক নামে এক পথচারী বলেন, প্রশাসন ও বাজার ইজারাদারদের কোনো নজরদারী না থাকার কারণে সড়কের উপর এসব দোকানপাট এবং অটোরিকশাস্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। একসময়ে এ বাজারের সুনামের কারণে পাশ্ববর্তী উপজেলা থেকেও মানুষ বাজার করতে আসত; বর্তমানে ভোগান্তির কারণে তা অনেটায় কমে গেছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, ‘আনোয়ারার গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে এ বাজার এলাকা রয়েছে। এখানে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সড়ক ও ফুটপাতে বসানো অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

জানা গেছে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার চাতরী বাজারের দু’পাশের প্রধান সড়কে দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় ধরে সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাস্ট্যান্ড ও অবৈধ দোকান বসিয়ে দখলে করে রাখলেও সম্প্রতি নির্মিত সড়কে একাধিক অবৈধ সিন্ডিকেট নতুন গড়ে উঠেছে। সিন্ডিকেটের অতিষ্ঠে অসহায় বাজারের ইজারাদারও। 

যার ফলে প্রতিনিয়ত যানজটের কারণে যাত্রী ভোগান্তি ছাড়াও এসব সিন্ডিকেটের দাপটের কাছে অসহায় এ বাজারে আসা পথচারীসহ সাধারণ মানুষ। মহাসড়কে যত্রতত্র গাড়ির পার্কিং এবং সড়কে ভাসমান দোকান ও মোড়ে মোড়ে অঘোষিত স্ট্যান্ডের কারণে যানজট লেগে থাকছে। যানজটে জনভোগান্তির বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের নির্লিপ্ততাকে দুষছেন এ অঞ্চলের মানুষ।

স্থানীয়দের দাবি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আনোয়ারা উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আনোয়ারা-কর্ণফুলীর আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম এমপি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে অতি দ্রুত চাতরী বাজারের যাবতীয় অবৈধ স্থাপনা, সড়ক দখল করে গড়ে উঠা সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত স্ট্যান্ড অপসারণের নির্দেশও দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারের কিছু ব্যবসায়ী, ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক ও সিএনজির চালকরা একাধিক সিন্ডিকেট গতে তুলে মূল সড়ক দখলে রেখেছে। এসব সিন্ডিকেটগুলো নির্ধারিত গাড়ি ভাড়া এবং অতিরিক্ত পন্যের কয়েকগুণ বেশি আদায় করে থাকে। সাধারণ মানুষ এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে সিন্ডিকেটের লোকজন দলবদ্ধভাবে বাজারে আসা ক্রেতাসহ সাধারণ মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটনায়।

অভিযোগ রয়েছে, কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, মুরগি কিংবা মুদি দোকানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ওজনে কম দিয়ে কারচুপি করছে; নকল পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে দেদারছে। মানুষ বাধ্য হয়ে নানা প্রয়োজনে বাজারে এসে ঠকছে। ক্রেতারা বলছেন, বাজারের এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সকালে অভিযান চালালেও বিকালে আবার একই রূপ দেখা যায়।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL